প্রমোটার

0
6
আশিকউজ্জামান টুলু
আশিকউজ্জামান টুলু। ছবি: হাসান মাহমুদ টিপু

লিখেছেন: আশিকউজ্জামান টুলু

আমরা আছিলাম ঢাকায় জন্মানো পোংটা পোলাপাইন। আমাগো ঘোল খাওয়ানের লেইগা এবং আমাগো বেইচা খাওনের লেইগাও আরও খাতারনাক পোলাপাইন আছিলো ঢাকায়।

সেই নাইন্টিজে একবার ধানমন্ডির সুলতানা কামালের মাঠে কনসার্ট অ্যারেঞ্জ করলো এক ধুপদুরস্ত পোলা। প্রচণ্ড স্মার্ট, প্রচণ্ড হ্যান্ডসাম, মুখে কোনো অ্যাকসেন্ট ছাড়া অনর্গল কথায় কথায় ইংরেজি কথা। ব্যান্ডের মইদ্ধে আছিলো এলআরবি, আর্ক, ফিলিংস, ওয়ারফেজ আর ফিডব্যাক মনে হয়।

আমরা তো ঐ হালার কথায় গইলা শেষ! শালায় ধানমন্ডিতে অফিস লইছে, গেলেই এমন আদর-আহাল্লাদ করে যে, আমরা আদরে আটখানা হইয়া যাই। কেমনে যেন সবাই বিনা বায়নাতে কনসার্ট করতে রাজি হইয়া গেলাম।


ওর
অফিসে
গিয়া রাইতের
পর রাইত বইসা থাকি

শালার পো কনসার্ট শেষ কইরা পেমেন্ট আর দিতে চায় না! তখন লাগলো আরেক ঝাউলি। ওর অফিসে গিয়া রাইতের পর রাইত বইসা থাকি আর ওর নার্ভ এতই শক্ত যে আমাগো আউলা ঝাউলা বুঝাইয়া প্রতিদিন রাইতে ওর অফিসে যাওয়ায়।

একদিন এইরকম বইসা আছি, আমি আমার লগে আর্মি চিফের ছোট ভাইরে লইয়া গেছি ওরে ডর দেখানোর লেইগা। আর্মি চিফের ভাই আছিলো আরেক ঢাকাইয়া পোংটা। ও গিয়া বিভিন্ন রকম ঝাড়ি ঝাপটা মারা শুরু কইরা দিলো বহু রাইত পর্যন্ত। যাইহোক, অ্যারেঞ্জার পোলাটা ডরে রাজি হইলো এক সপ্তার মইদ্ধে টাকাটা দিয়া দেওনের জন্য।

আর্ক
আর্ক-এর স্বাধীনতা অ্যালবামের কাভার

অনেক রাইত হইয়া গেছিলো বইলা ওর অফিসের পিয়ন নিচের তলার একটা ঘরে দরজা বন্ধ কইরা ঘুমাইয়া পড়ছিলো। আমরা যখন ঝাড়ি ঝাপটা মাইরা ফিরা আমু, স্মার্ট পোলাটা কইলো: ‘টুলু ভাই চলেন, একসাথে বের হই, পিওনকে ঘুম থেকে উঠিয়ে ওর হাতে অফিস বুঝিয়ে দিয়ে যাই।’

আর্মি চিফের ভাই আর আমি কইলাম, ঠিকাছে। নিচে গিয়া সবাই পিওনের দরজার সামনে খাড়াইয়া আছি, স্মার্ট পোলাটা ডাকতেছে খুব মৃদুস্বরে ভদ্রভাবে:
‘মফিজ, এই মফিজ, ওঠো, আমি তোমার স্যার… মফিজ, এই মফিজ, প্লিজ ওঠো।’

এইভাবে ডাকতে শুইনা আর্মি চিফের ভাই কইলো: ‘ধুরো মিয়া, এইভাবে ডাকলে এই হালায় কি উঠবো নাকি? কেমনে ডাকতে হয়, দেখেন…।’


‘মফিজ্জা,
ঐ মফিজ্জা,
ওঠ হোগার পোলা,
হোনোস না তর বাপরা
বাইরে খাড়াইয়া
আছে?’

এই কইয়া ও ডাকতে শুরু করলো: ‘মফিজ্জা, ঐ মফিজ্জা, ওঠ হোগার পোলা, হোনোস না তর বাপরা বাইরে খাড়াইয়া আছে?’

মফিজ এবার সত্যি উঠলো এবং ঘুম জড়িত কণ্ঠে ভিতর থেকে বলে উঠলো: ‘কে?’

আর্মি চিফের ভাই আবার বলে উঠলো: ‘আমি তোমার ইংরেজি স্যার, ছোটকালে ইংরেজি পড়াইতাম, হোগার পোলা ওঠ!’

আমি পাশে থেকে হাহাহাহা করে হেসে ওকে বললাম: ‘এইটা কী কইলা তুমি?’

স্মার্ট অ্যারেঞ্জার: ‘ছি ছি! আপনি এসব কী বলছেন? ও আমার পিয়ন; কি একটা ইম্প্রেশন হবে আমার!’

আর্মি চিফের ভাই: “হ, ওর ইম্প্রেশন লইয়া ব্যস্ত আপনে, আমাগো টাকা দিতেছেন না, আমাগো কি ইম্প্রেশন হইতাছে সেইটার তো কোনো খবর রাখেন না, আবার সারাদিন ইংরেজি ফলান। এইজন্যেই ওরে কইলাম, ‘আমি তোমার ইংরেজি স্যার, ছোটকালে ইংরেজি পড়াইতাম।'”

আমি পাশে থেকে হাহাহাহাহাহাহাহা করে হেসে উঠলাম রাত্রি ৩টার সময়।

Print Friendly, PDF & Email
কিংবদন্তি রকস্টার, কীবোর্ডিস্ট, মিউজিশিয়ান, ভোকাল, লিরিসিস্ট; বাংলাদেশ। 'চাইম' ও 'আর্ক' ব্যান্ডের প্রতিষ্ঠাতা।। তার হাত দিয়েই বাংলাদেশে প্রথম অডিও ইন্ডাস্ট্রিতে ‘ব্যান্ড মিক্সড’ ধারার সূচনা হয়েছিল।

জবাব দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here