ক্রেডল অব ফিলথ: ছদ্ম সমাজ-বিদ্রূপ এবং অন্যান্য হরর

0
50
ক্রেডল অব ফিলথ

লিখেছেন: আলেক্সান্ডার হে ।। অনুবাদ: রুদ্র আরিফ


ক্রেডল অব ফিলথ
এক্সট্রিম মেটাল ব্যান্ড; ইংল্যান্ড । ১৯৯১–


ক্রেডল অব ফিলথ যুক্তরাজ্যের সবচেয়ে সফল আন্ডারগ্রাউন্ড মেটাল ব্যান্ড। প্রতিষ্ঠার প্রথম ১০ বছরের মধ্যেই ১০ লাখেরও বেশি কপি অ্যালবাম বিক্রি হয়েছে তাদের। ১০টি অ্যালবাম [বর্তমান হিসেবে ১৩টি স্টুডি অ্যালবাম ও ২টি লাইভ অ্যালবাম] প্রকাশ এবং তিন দশকেরও বেশিকালের জার্নির ভেতর দিয়ে এ ব্যান্ডের ক্যারিয়ার শ্রোতাদের মনে ঝাঁকুনি ও বিতর্ক জন্ম দেওয়ার খ্যাতি অর্জন করেছে।

নিন্দিত ‘জিসাস ইজ অ্যা কান্ট’ টিশার্টের মাধ্যমে এই মাত্রা এমন আকার ধারণ করেছে, যা কি না ক্রোধোন্মত্ত মেটাল বিশুদ্ধতাবাদীদের হাতে গড়া এবং একটি চির-বিদ্বেষপূর্ণ ও চির-পরিবর্তনশীল লাইনআপের ভেতর দিয়ে চলা ব্যান্ডটির ওই টিশার্ট মুহূর্তেই ‘সোল্ড আউট’ হয়ে গিয়েছিল বলে দাবি করা হয়। বলে রাখা ভালো, ১৯৯১ সালে গড়ে ওঠা এই ব্যান্ডে প্রতিষ্ঠাতা ড্যানিয়েল ডেভি ওরফে ড্যানি ফিলথই একমাত্র সদস্য– যিনি এখন পর্যন্ত একবারও ব্যান্ড ছাড়েননি।

ড্যানি ফিলথ

দীর্ঘ এই যাত্রাপথে ক্রেডল অব ফিলথ একইসঙ্গে বিতর্ক করেছে আলিঙ্গন, আবার হয়ে উঠেছে উদ্ভাসিত। নিশ্চিতভাবেই, ব্যান্ডটির গানের কথার মধ্যে ধাক্কা দেওয়ার অর্থ নিহিত রয়েছে; এটির প্রথম ডেমো টোটাল ফাকিং ডার্কনেস-এ রয়েছে ‘দ্য রেপ অব ফেইথ’ ও ‘স্পেটার্ড ইন ফিজিস’-এর মতো গান।


কলঙ্কের টানে এই লীলা
খেলায় ভিজে
একাকার
সব
কুমারী যোনী

ক্যারিয়ারজুড়ে প্রকাশ করা অন্য ট্র্যাকগুলোরও মধ্যেও রয়েছে একই মনোভাব; যেমন, ‘গিলডেড কান্ট’, ‘অব ডার্ক ব্লাড অ্যান্ড ফাকিং’ ও ‘সুকাম্ব টু দিস’। ২০১২ সালে প্রকাশিত দ্য ম্যান্টিকোর অ্যান্ড আদার হররস অ্যালবামের ‘ফর ইউর ভালগার ডিলেকটেশন’ গানের কয়েকটি পঙক্তির কথাই ভাবা যাক: ‘ভার্জিন কান্টস অ্যাকুয়েভার অ্যাট দিস ফোরপ্লে ফর দ্য স্পাইটফুল’ [সরল বাংলা হতে পারে, ‘কলঙ্কের টানে এই লীলা খেলায় ভিজে একাকার সব কুমারী যোনী’]। ড্যানি সুতীব্র চিৎকারে গাইতে থাকেন কথাগুলো। আবার, একই অ্যালবামের ‘প্যালিড রিফ্লেকশ’ গানের কথাগুলো তুলনামূলক আরও নিগূঢ়, তবে কম অপ্রীতিকর নয়: ‘অব ডিউটিফুল ভিকটিমস আই বিউটিফুলি টেক/ উইথ ডিলিসিয়াস ম্যালিসিয়াস ইনটেন্ট’ [‘সুচারু আক্রোশের প্রবৃত্তিতে যত ন্যায়নিষ্ঠ শিকার আমি দারুণভাবে করেছি নিজের’]।

ভি এম্পায়ার। ব্যান্ড: ক্রেডল অব ফিলথ

ক্রেডল অব ফিলথ-এর ১৯৯৬ সালে প্রকাশিত ভি এম্পায়ার-এ যেমনটা দেখি– নগ্ন এক নারী তার স্তনে (সম্ভবত) নকল রক্ত লেপে নিচ্ছে– এমন পর্নোগ্রাফিক ইশারায় ভরা ব্যান্ডটির থতমত খাওয়ানো অ্যালবামগুলোর প্রচ্ছদ ডিজাইনের মতোই গানেও তারা নির্বিঘ্নচিত্তে নিরন্তর শ্রোতাদের মনে ধাক্কা দিয়ে যায়।

বলা হয়ে থাকে, এ ক্ষেত্রে তারা মোটেও অনন্য নয়; নয় অনন্যভাবে কলুষতাকারী। সুইডিশ ব্ল্যাক মেটাল ব্যান্ড মারডুক ১৯৯১ সালে একটি ডেমো করেছিল, ফাক মি জিসাস নামে; সেটির কাভার আর্টে দেখা যায়– নিজের যোনী কিংবা পায়ুপথে একটি ক্রুশ ঢোকাচ্ছে এক নারী।

এদিকে নরওয়েজিয়ান কাল্ট ব্যান্ড গর্গোরথ এক কনসার্টের সময় মঞ্চে ক্রুশবিদ্ধ রূপে ঝুলিয়ে রেখেছিল নগ্ন মডেল– যাদের মাথা পচা ভেড়ার; আর কনসার্টের অংশ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল গ্যালন-গ্যালন রক্ত। ওই ব্যান্ডের প্রাক্তন লিড গায়ক গাহল প্রতিবেশীকে অপহরণ ও নিপীড়নের দায়ে হয়েছেন কারাবন্দি, তারপর জানা গেছে– তিনি সমকামী, এবং ক্যারিয়ারে বৈচিত্র্য আনতে হয়েছেন ফ্যাশন ডিজাইনার। এ সবই ক্রেডল অব ফিলথকে তুলনামূলকভাবে পথচারী করেছে বলে মনে হয়; আর সেটি অযৌক্তিকভাবে নয়।


ভাষার
এক দারুণ
পুলকের পাশাপাশি
নিদারুণ তিক্ত হাস্যরসে ভরা

কাজের ভেতর ডার্ক হিউমার সূক্ষ্ম অথচ জোরালভাবে জুড়ে দেওয়ার ক্ষমতা ক্রেডল অব ফিলথকে বিশিষ্ট করে তুলেছে। তাদের গানের কথায় শব্দ নিয়ে চলতে থাকে নিরন্তর খেলা। উদাহরণ হিসেবে ‘দ্য নান উইথ অ্যাস্ট্রাল হেবিট’, ‘শ্যাট আউট অব হেল’, ‘সুইসাইড অ্যান্ড আদার কমফোর্টস’, ‘ম্যালিস থ্রো দ্য লুকিং গ্লাস’ ও ‘দ্য বায়রনিক ম্যান’ গানগুলো খেয়াল করলে দেখা যাবে, এ সবই ভাষার এক দারুণ পুলকের পাশাপাশি নিদারুণ তিক্ত হাস্যরসে ভরা।

এদিকে, ‘দ্য ফিটাস অব অ্যা নিউ ডে কিকিং’ গানের ‘আই স দ্য সিলভার লাইনিং হিডেন ইন অ্যা মাশরুম ক্লাউড’ [‘মাশরুমের মেঘে রুপালি আস্তরণ লুকিয়ে থাকতে দেখেছি আমি’] থেকে শুরু করে ‘ফ্রম দ্য ক্রেডল টু ইনস্লেভ’ গানের ‘অ্যা ফ্রেশ হরর ব্লোজ বাট টেন বিলিয়ন সোলস/ আর ব্লাইন্ড টু সি দ্য রোটিং উড ফর দ্য ট্রিজ’ [‘একটা টাটকা ভয়াবহতা প্রবাহমান, তবু ১০ বিলিয়ন আত্মা এতটাই অন্ধ যে, গাছের ভেতর পাচ্ছে না দেখতে কাঠের পচন’] পর্যন্ত কথাগুলো শুধুমাত্র রোমাঞ্চকর চিত্রকল্পের প্রখরতাই নয়, বরং ভাষা নিয়ে এমন এক প্রাণবন্ততার ইঙ্গিত দেয়, যা এতে বর্ণিত ভয়াবহতাকে প্রশমিতও করে না, আবার এটিকে খুব বেশি গুরুত্বের সঙ্গেও নেয় না।

ক্রুয়েলটি অ্যান্ড দ্য বিস্ট

ব্যান্ডটির নামের মধ্যেই নিজস্ব লেবেলের ছাপ রয়েছে: অ্যাব্রাক্যাডেভার ও ইনস্ট্রুমেন্ট এন্ডোর্সমেন্টগুলোকে নিপীড়ণের ইনস্ট্রুমেন্ট হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে; তেমনটাই জানান দেওয়া হয়েছে ক্রুয়েলটি অ্যান্ড দ্য বিস্ট অ্যালবামের লিরিক বুকলেটে: ‘ক্রেডল অব ফিলথ এখন এভাবে এক-এক করে আপনাদের ধন্যবাদ জানাবে…।’

এমনকি সাক্ষাৎকার দেওয়া ও গণমাধ্যমে হাজির হওয়ার কালে ব্যান্ডটি নিজেদের আত্মবিদ্রূপকারী অথচ ‘বৈশিষ্ট্যমূলক’ স্বর বজায় রাখে। ১৯৯৭ সালে এক সাক্ষাৎকারে তৎকালীন গিটারিস্ট স্টুয়ার্ট অ্যান্সটিস তিক্তভাবে অভিযোগ তোলেন, প্রিন্সেস ডায়ানার অন্তেষ্ট্যিক্রিয়ার কারণে টিভিতে এমন ‘একটি হরর শো সম্প্রচার বাতিল করা হয়েছিল, যেটি সে রাতে দেখার কথা ছিল আমার।’

অতি সম্প্রতি ড্যানি ফিলথ বলেছেন, একবার ডাউনলোড ফেস্টিভ্যালে [মিউজিক ফেস্টিভ্যাল, ইংল্যান্ড] ব্যান্ডটির প্রতি হাঙ্গামাবাজরা বোতল ছুড়ে মেরেছিল; অথচ তাদের ‘সেগুলো আমাদের ড্রামারের দিকে ছুড়ে মারার কথা, যে কি না ইয়র্কশায়ারের লোক, এবং এসবে অভ্যস্ত।’ একটি প্রকাশনা অনুষ্ঠানে তিনি আরও জানান, নিজের প্রেমিকাকে মেরে ফেলেছেন ‘একটা অ্যাসট্রে দিয়ে, আমার ইস্ট এন্ড [লন্ডন] ক্লাবের অফিসে,’ তবু মামলা এড়িয়ে যেতে পেরেছেন– ‘মানুষকে বিমোহিত করার মতো উজ্জ্বল হাসিমুখের একজন মানুষ’ তিনি বলে!


বিদ্রূপাত্মক বৈশিষ্ট্যই
ক্রেডল অব ফিলথ-এর
আউটপুট ও থিমে স্বকীয়তা এনে দেয়

এই আত্মবিদ্রূপ আসলে টিকে থাকার একটি কার্যকরী কৌশল; এটি ব্যান্ডটির সহজাত পরিহাসকে বড় করে তোলার মাধ্যমে আরও গুরুতর সমালোচনা ও বিতর্কগুলোকে নিবৃত্ত করতে কাজে দেয়। তবু আমি মনে করি, এই বিদ্রূপাত্মক বৈশিষ্ট্যই ক্রেডল অব ফিলথ-এর আউটপুট ও থিমে স্বকীয়তা এনে দেয়; আর এই বিভ্রান্তি বস্তুত মিউজিক ও চিত্রকল্পের আপাতদৃষ্টে ভিত্তিহীন স্বর গড়ে তোলে।

এটির দুটি নির্দিষ্ট উদাহরণ হলো ১৯৯৮ সালের অ্যালবাম ক্রুয়েলটি অ্যান্ড দ্য বিস্ট এবং ২০০৮ সালের অ্যালবাম গডস্পিড অন দ্য ডেভিল’স থান্ডার— এ দুটি শুধুই কনসেপ্ট অ্যালবাম নয়, বরং এগুলোকে পরস্পর সহচরও বলা যেতে পারে; কেননা, ড্যানি বলেছিলেন– কুখ্যাত ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বগুলোর ওপর অভিন্ন প্রারম্ভিক গবেষণা ও আগ্রহ থেকেই এই উভয় অ্যালবামের আবির্ভাব ঘটেছে।

গডস্পিড অন দ্য ডেভিল’স থান্ডার

তাছাড়া, উভয় অ্যালবামই ক্ষমতার স্বভাবের ওপর ফোকাস করেছে, আর দেখিয়েছে, কী করে এটি ব্যক্তিমানুষ ও তাদের সমাজ– উভয়কেই একেবারেই দুর্নীতিপরায়ণ করে তোলে। ক্রুয়েলটি অ্যান্ড দ্য বিস্ট যেখানে ষষ্ঠদশ-সপ্তদশ শতকের হাঙ্গেরিয়ান অ্যারিস্টোক্রেট কাউন্টেস এলিজাবেথ বাথোরিকে ঘিরে– যিনি কি না নিজের সৌন্দর্য ধরে রাখার জন্য তরুণীদের খুন করে তাদের রক্ত দিয়ে গোসল করতেন বলে কথিত রয়েছে, সেখানে গডস্পিড অন দ্য ডেভিল’স থান্ডার ফোকাস করেছে জোয়ান অব আর্কের সহচর এবং পঞ্চদশ শতকের ফরাসি অভিজাত পুরুষ গিলস ডি রইসের ওপর– যিনি পরবর্তীকালে পৈশাচিক কর্মযজ্ঞ, যৌনবিকৃতি ও গণশিশুহত্যায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন।

নিশ্চিতভাবেই, উভয় অ্যালবামেই রয়েছে কল্পিত চিত্রায়ণ, এবং এইসব ব্যক্তির পতনের প্রকৃত কারণ অন্বেষণের মতো কোনো রাজনৈতিক প্রসঙ্গ ও চক্রান্তের অবতারণা করা হয়নি। তবু উভয় অ্যালবামই জানান দিয়েছে– কী করে নিজেদের অভিজাত সামাজিক মার্যাদার মাধ্যমে এইসব ব্যক্তিমানুষ দুর্নীতিপরায়ণ হয়ে ওঠে এবং শ্রেণিগত ও সামাজিক বিশেষাধিকারের প্রচলিত ধারণাগুলো কীভাবে তাদেরকে অতিকায় পিশাচে পরিণত হতে সাহায্য করে।

এ নিয়ে আরও বিশদ আলোচনার জন্য, যেখানে সমাজ-সংক্রান্ত ধারাভাষ্যের ভেতর হরর ও পর্নগ্রাফিক অনুষঙ্গগুলো মিশিয়ে দেওয়া হয়– ট্র্যান্সগ্রেসিভ স্যাটেয়ার বা সীমালঙ্ঘনকারী বিদ্রূপের এমন একটি চলতি রেওয়াজের মধ্যে ক্রেডল অব ফিলথ-এর অবস্থান করাকে একটু মিলিয়ে দেখতে চাই আমি।

ক্রেডল অব ফিলথ

অতি সম্প্রতি, আধুনিক ব্রিটিশ স্যাটেয়ার প্রবণতার ভেতর একদিকে সামাজিক পরিস্থিতির গভীরতর, অথচ স্বভাবতই দ্ব্যর্থক সমালোচনার দেখা মেলে; আমরা আমাদের সমাজ ও ব্যক্তিমানুষের ত্রুটি-বিচ্যুতিগুলো তুলে ধরি, অথচ সেগুলো সম্পর্কে কোনো পাতি নীতিকথা শোনাই না কিংবা এমন কোনো সমাধান করি না হাজির: ‘সঠিক সমালোচনা ও নিগূঢ় অর্থবহ মূল্যবোধের স্বস্তি থেকে সরে যাওয়া সমাজ-বিদ্রূপের একটি নতুন, অন্ধকারাচ্ছন অবকাঠামোকে এই তরিকায় নিরীক্ষা করার পথ খুলে দেবে এটি। যদিও যন্ত্রের মতো পুনরাবৃত্তি ও অনমনীয়তা হয়তো হিউমারের একটি উৎস হিসেবে টিকে রবে, তবু কমেডির ফোকাস এখন সমাজের অনমনীয় ও যান্ত্রিক শৃঙ্খলা, এবং সামাজিক অবকাঠামোর ভেতর ব্যক্তিমানুষগুলো যে বিবিধ ভূমিকায় অবতীর্ণ, সেগুলোর সঙ্গে তাদের জটিল বোঝাপড়াকে এটি যতটা প্রকাশ করে দেয়, সেই তুলনায় ব্যক্তিমানুষগুলোকে নিজেদের সংশোধন করে নেওয়ার দিকে এর প্রচেষ্টা নেই।’


আমরা কেন্দ্রীয়
চরিত্রগুলোর আচরণের
বিরুদ্ধে তাল মিলিয়ে বিদ্রোহ
করতে থাকি, তবু তাদের
প্রতি আমাদের মনে
সমবেদনা জাগ্রত
হতে চায়

ওই উভয় অ্যালবামে আমরা কেন্দ্রীয় চরিত্রগুলোর আচরণের বিরুদ্ধে তাল মিলিয়ে বিদ্রোহ করতে থাকি, তবু তাদের প্রতি আমাদের মনে সমবেদনা জাগ্রত হতে চায়। এলিজাবেথকে কেউ কেউ দেখে সত্যিকারের ভালোবাসার মানুষ, নিজেরই মতো একজন রক্তপিপাসু অ্যারিস্টোক্র্যাট হিসেবে– যিনি ‘যুদ্ধে নৃশংসভাবে নিহত হয়েছেন’ [‘দ্য টুইস্টেড নেইলস অব ফেইথ’ গানের অংশবিশেষ]; অন্যদিকে গিলসের অতুলনীয় ট্রাজেডি, এবং বিকৃতির দিকে তার পতনমুখী যাত্রা শুরুর কারণ হিসেবে অনেকেই জোয়ান অব আর্কের শহিদ হওয়ার ঘটনাকে সামনে নিয়ে আসে।

নিজেদের পতনের পর এলিজাবেথকে এক ভয়ানক নিয়তির ভোগান্তি সইতে হয়েছিল– নিজেকে আমৃত্যু একটি রুমে বন্দি অবস্থায় কাটানোর মাধ্যমে; অন্যদিকে, একটি অন্তর্দৃষ্টির পর জোয়ান অব আর্কের মাধ্যমে প্ররোচিত হয়ে গিলস অনুশোচনা করে নিজেকে মুক্তি দিতে চেয়েছেন ‘লাইক ক্রাইস্ট টু গোলগোথা, হিজ ফেস টু দ্য সান’ [‘যিশু থেকে শুরু করে গোলগোথা মতো, সূর্যের দিকে ঘুরিয়ে নিজের মুখ’; ‘গডস্পিড অন দ্য ডেভিল’স থান্ডার’ গানের কথা]।

উভয় ব্যক্তিত্বই নিজেদের ট্রাজেডির প্রশ্নে মূলত শেক্সপিয়ারধর্মী– ঠিক যেন ম্যাকবেথের মতো তারা নিজ কৃতকর্মের ফাঁদেই ডুবেছেন, তবু তাদেরকে আমরা পুরোপুরি ঘৃণা করার মতো বিলাসিতা দেখাতেও পারি না কখনোই, যেমন ঘৃণা করতে পারি না ম্যাকবেথকে। যারা দুর্নীতিগ্রস্ত ও বিদ্বেষপূর্ণ, অথচ নিজেদের সামাজিক অবস্থানের কারণে এসব করতে সক্ষম– সেইসব ব্যক্তিত্বকে ক্রেডল অব ফিলথ আমাদের সামনে এমনভাবে হাজির করেছে, যাদের সেইসব কর্মকাণ্ডের পরেও তাদের প্রতি বিরক্তিকরভাবে মানবিকবোধ ও সমবেদনা আমাদের মনে জেগে ওঠে।

এটি এমনই এক বিদ্রূপাত্মক ঐতিহ্যের প্রতিফলন ঘটায়, যেটি এখনো পুরনো। উভয় চরিত্রের মধ্যেই জায়গা করে নেয় সহিংসতা ও নৃশংসতা, এবং তাদের সমাজের দুর্নীতিগ্রস্ত বৈশিষ্ট্যের রূপ ফুটিয়ে তুলতে ব্যবহার করা হয় এর; আর তা আমাদের মনে করিয়ে দেয় রোমান স্যাটেয়ারের কথা– যা কি না পুনঃনির্দেশিত সহিংসতার একটি তাৎপর্যের করেছে ব্যবহার, আর তার ফলে এ ক্ষেত্রে উগ্র কল্পচিত্রের হয়েছে অবতারণা।

প্রাচীন রোমান কবি হোরেস যেখানে দাবি তুলেছেন, সহিংসতার উচ্ছেদ ঘটানো বিদ্রূপ আসলে সমাজের মধ্যস্থতাকারীর প্রকৃত তাৎপর্য বহন করে; সেখানে (আরেক প্রাচীন রোমান কবি) জুভেনালের দাবি, এটি সমাজের মধ্যেই বিদ্যমান, এবং এটি স্বয়ং সমাজের একটি আর্জি– যেখানে সহিংসতা– হোক সেটি আক্ষরিক কিংবা রূপক– প্রকাশ করে দেয় সমাজের সহজাত ভঙুরতা।

এটি নিশ্চিতভাবেই এলিজাবেথের বেলায় অগ্নিশিখার মধ্যে ‘দোসরদের নিপীড়িত যোনী’কে [‘আইজ দ্যাট উইটনেসড ম্যাডনেস’ গানের অংশবিশেষ– ‘দ্য টর্চারড কান্টস অব অ্যাকোমপ্লাসিস’-এর সরল বাংলা] এবং গিলসের বেলায় একটি গির্জার আদালতে সে যখন হতভম্ব বানিয়ে দিয়ে প্রকাশ্যে মশকরা করাকে জুড়ে দেয়। তার মশকরাটি এমনই: ‘হি থট দ্য কোর্ট অ্যা ফার্স/ হিজ টাং অ্যাজ শার্প অ্যাজ গ্লাস…/ ফ্লেক্সিং ভেক্সেশন অ্যাট ক্লারিকস অ্যাগাস্ট/ ইন আপরোর হি কজড দ্য ক্রস টু বি মাস্কড’ [সরল বাংলায়, ‘আদালতকে তার কাছে প্রহসন লাগে/ তার জিহ্বা যেন কাঁচের মতো ধার…/ যাজকদের ভীতু মুখে নমনীয় বিরাগ জাগে/ সোরগোলের ফাঁকে সে ক্রুশকে বানায় মুখোশ তার’; ‘গডস্পিড অন দ্য ডেভিল’স থান্ডার’ গানের অংশবিশেষ]।


আমাদের
শরীরেও ভরে
গেছে কলুষতা ও
দুর্নীতি; যৌনবিকৃতির
ভয়াবহতা, দুর্নীতি ও মাংসের
অবক্ষয় এটিকে আরও
বেশি সুস্পষ্ট করে
তুলেছে

চরিত্রগুলোর অপরাধের একেবারেই শারীরিক ও উৎকট ধরনটি রোমান ঐতিহ্যগুলোর কথা মনে করিয়ে দেয়। ‘দ্য টুইস্টেড নেইলস অব ফেইথ’ গানে এলিজাবেথ যখন ‘ডাইনির মন্ত্রে ঘোরগ্রস্ত হয়ে একটা ছোরা দিয়ে হস্তমৈথুন করতে গিয়ে পড়ে যায়’ [‘ফেল/ টু মাস্টারবেটিং উইথ অ্যা ড্যাগার/ অ্যাজ দ্য উইচ ড্যাবলড স্পেলস’] কিংবা ‘ক্রুয়েলটি ব্রট থি অর্কিডস’ গানে ‘কুমারীরা যখন নগ্ন হয়ে হাঁটু গেঁড়ে কলুষিত হতে বাধ্য হয়, পেছন থেকে করে কুপোকাত, তাদের মিনতির পথ রুখে দেয় রজঃস্রাব’ [‘ভার্জিনস ফোর্সড ন্যাকেড/ টু ডিফাইল অন রেন্ট নিজ/ হ্যাকড অ্যান্ড র‍্যাকড ব্যাকওয়ার্ডস/ মেনসিস চোকিং দেয়ার প্লিজ’], আমরা দেখি– আমাদের শরীরেও ভরে গেছে কলুষতা ও দুর্নীতি; যৌনবিকৃতির ভয়াবহতা, দুর্নীতি ও মাংসের অবক্ষয় এটিকে আরও বেশি সুস্পষ্ট করে তুলেছে।

একইভাবে, গিলস ডি রইসের ক্ষেত্রে ‘সুইটেস্ট মেলফিসিয়া’ গানে দেখি– তার ‘আঙুলের ছাপ… দেবদূত সেরাফিমের গাল বেয়ে ঝরে পড়া কান্নার ঘ্রাণে হয়ে ওঠে কুহক, আর বিবর্ণ ও সাবলীল একটি হাতুড়ির অংশ’ [‘ফিঙ্গারপ্রিন্টস (…) সেন্টেড উইথ/ দ্য টিয়ার ফ্রম সেরাফিম চিকস/ পার্ট গ্ল্যামার অ্যান্ড অ্যা হ্যামার/ ক্যাডাভারাস অ্যান্ড গ্লিব’], এবং ‘হানি অ্যান্ড সালফার’ গানে একটি ‘পবিত্র মাংস ও উন্মোচিত চোখের ওপর নিপীড়ক অরণ্যনীতির বৃদ্ধাঙুলের প্রয়োগের এই গোলগোথিক যৌনকামনা মধু নিংড়ে বের করে আনে জঘন্য সালফার’ [‘টর্চার গার্ডেন রুলস অব থাম্ব অ্যাপ্লাই/ টু স্যাক্রেড ফ্লেশ অ্যান্ড দ্য ন্যাকেড আই/ গোলগোথিক দিস ইরোটিকা/ স্টিংকিং অব হানি অ্যান্ড ওর্স, সালফার’]। এখানকার ভয়াবহতাটি হলো শরীর, দুর্গন্ধ, দুর্নীতি, কামনা ও কলুষতার ভয়াবহতা।

ড্যানি ফিলথ

কলুষিত শরীরের প্রতি একই সঙ্গে বিরাগ ও বিমুগ্ধতা ছিল রোমান স্যাটেয়ারের। যোনী, ওরাল সেক্স, বগল, ময়লা মাখানো মুখ– এ সবই আত্মিক ও দৈহিক অবক্ষয়ের সম্ভাবনাময় রূপক হিসেবে ব্যবহৃত হতো, যেখানে ফেলিটিও ও কানিলিঙ্গাসের [শিশ্ন ও যোনী চোষণ] মতো ‘নোংরা’ যৌনকর্ম এবং অপবিত্রতার আরও গভীর আতঙ্ক অন্তর্নিহিত থাকত। ‘মুতে ভেসে যাওয়া বেশ্যার নোংরা লালা’– কোনো রোমান লেখকের এমন উপমার সঙ্গে একই ভঙিমায় ক্রেডল অব ফিলথ-এর গানের মিল পেলে চমকানোর কিছু নেই; একইরকম মৌখিক ধর্ষণ ও উল্লঙ্ঘন, অবক্ষয়, কলুষতা ও অ্যানাল সেক্স ধরনের কর্মকাণ্ডের প্রতি অস্বাস্থ্যকর মুগ্ধতা রয়েছে এ ব্যান্ডের।

এরপর সম্ভবত, গিলসের বর্ণনা যেন রোমান লেখকদের লেখা থেকে অনুপ্রাণিত হওয়ার সঙ্গে মানানসই হয়ে ওঠে: তার ত্রয়োদশ সিজার হয়ে ওঠার আকাঙ্ক্ষাকে প্রকাশ করা একই শিরোনামের [‘দ্য থার্টিন্থ সিজার’] গানের কথায় রয়েছে– ‘রোমের রক্তবর্ণের সঙ্গে চন্দ্রাহত স্বপ্নগুলো ভরে রয়েছে সুইটোনিয়াস [প্রাচীন রোমান ইতিহাসবিদ] ও ডিম্বাশয়’ [‘সুইটোনিয়াস অ্যান্ড অভিড/ ফিলড দ্য মুনস্ট্রাক ড্রিমস/ উইথ দ্য পার্পেল অব রোম’]। আরও বেশি মানানসই হয়ে উঠেছে লাতিন শব্দ– ‘মরবাস’– যে শব্দ রোমান লেখকরা অসুখ ও বিকৃতি– উভয় বোঝাতেই প্রায় একইসঙ্গে ব্যবহার করতেন। রোমানদের ক্ষেত্রে এবং এলিজাবেথ বাথোরি ও গিলস ডি রইস– উভয়ের অবক্ষয়যুক্ত শারীরিকতার ক্ষেত্রে এ দুটিকে [অসুখ ও বিকৃতি] অভিন্ন বলেই মনে হয়।


সকল ভাবভঙ্গি সহকারে
পর্নোগ্রাফি ও
হররের
মতো
বিকৃত
বিনোদনের
মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত
গড়ে ওঠা উগ্র বিদ্রূপ ও
এক্সট্রিম মেটাল হয়তো অনেকের
মনেই ধাক্কা
দেয়

স্বভাবতই, রোমানদেরকে তাদের ছদ্মবেশের সঙ্গে নিজেদেরই আত্ম-ন্যায়নিষ্ঠতার দ্বন্দ্বের কারণে এবং ক্রেডল অব ফিলথকে আমাদের ভয়াবহতা দেখানোর পাশাপাশি সেটিকে অস্বাস্থ্যকর পুলকের সঙ্গে গ্রহণ করতে উৎসাহ জোগানোর মাধ্যমে করা ভণ্ডামির কারণে যে কেউ বেশ ভালোভাবেই অভিযুক্ত করতে পারে। সবচেয়ে বড় কথা, সকল ভাবভঙ্গি সহকারে পর্নোগ্রাফি ও হররের মতো বিকৃত বিনোদনের মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত গড়ে ওঠা উগ্র বিদ্রূপ ও এক্সট্রিম মেটাল হয়তো অনেকের মনেই ধাক্কা দেয়; তবু স্বীকার করতে হবে, একটি প্রতিষ্ঠিত ঐতিহাসিক পরম্পরাকে আবারও অনুসরণ করেছে ক্রেডল অব ফিলথ

প্রাক-প্রথম দিকের আধুনিক জনপ্রিয় ধারার স্যাটেয়ার ও প্যারোডিতে অশ্লীল ভাষা, এবং সামন্তবাদী ও ধর্মপন্থী– উভয় ক্ষেত্রের বিখ্যাত পাবলিক ফিগারদের নিয়ে প্রকাশ্যে মশকরা– উৎসব ও লোকসংস্কৃতির অংশ হিসেবে সহ্য, এবং এমনকি উৎসাহিতও করা হতো। সামাজিক উত্তেজনাগুলোর ক্ষেত্রে এটি যেখানে একটি চাপ, এবং স্বয়ং সমাজ সম্পর্কে মতপ্রকাশ ও আলোচনার একটি নিয়ন্ত্রিত তাৎপর্য হিসেবে আবির্ভূত হতো, সেখানে একইসঙ্গে এটি নিজ ভণ্ডামি সম্পর্কেও ছিল প্রকাশ্যে অবগত: অর্থাৎ, স্যাটেয়ারকারীরা ছিলেন স্বাধীনভাবে স্বীকৃত, এবং এমনকি যেসবের প্রতি আক্রমণ তারা করতেন, সেগুলোতেই একটি বড় মাত্রায় নিজেদের অংশগ্রহণ করতেও দেখা যেত তাদের।

এই বিবেচনায়, উদ্ভটত্বের ভেতরে নিজ বিকৃত পুলক ফুটিয়ে তোলা এবং নিজ উদ্ভট ধরনের ব্যাপারে ক্রেডল অব ফিলথও সদানন্দে অবগত। ক্রুয়েলটি অ্যান্ড দ্য বিস্ট-এর লিরিক বুকলেটের মূলকথা হিসেবে ব্যান্ডটি নিজেদের সারাংশ উপস্থাপন করেছে ‘ট্যারা-চোখ, অসার ও অপ্রকৃতিস্থ’ হিসেবে, এবং বুকলেটটির বাকি অংশে বর্ণনা করা হয়েছে ব্যান্ডটির জঘন্য (ও কাল্পনিক) এক্সট্রাকারিকুলার অ্যাকটিভিটিজ; আর তা করা হয়েছে আরও বেশি অশ্লীল, উৎকট, এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে– উদ্ভট সব টার্মে: “এই স্বাধীনতসত্তা পোজ দিয়েছে একজন পাদ্রীর রূপে; তাদের মৃত্যুশীতল চোখের ভেতর নিজের বীজের ঝর্ণা বইয়ে দেওয়ার আগে তার ঝাঁক থেকে প্রথমে তালিকাভুক্ত করছে হীন কনফেশনগুলো। তার আরেকটি উন্মত্ততা হলো– একটি অতিকায় ক্রুশ নিয়ে এক নগ্ন নান’কে বসিয়ে রাখা– যেন সেই নানের যোনীর ভেতর নিজের যাজকত্ব সে একদম শেষপ্রান্ত পর্যন্ত ডুবিয়ে দিতে পারে: তার সেই ঠেলে দেওয়া ক্রুশ ওই নানের ভগাঙ্কুরের যিশুর দাড়িতে ঘর্ষণের অনুভূতি এনে দেবে।’

ক্রেডল অব ফিলথ

একটি আত্মপ্রতিকৃতি কতটুকু চরম ও অশ্লীল হতে পারে, এই সেলফ-প্যারোডি তারই প্রমাণ। ভালো রকমের স্যাটেয়ার আসলে নিজের অভীষ্ট দর্শকের কাছে নিজেকে পরিহাসমূলক আত্ম-প্রমাণে পরিণত করে। জোনাথন সুইফটের অ্যা মডেস্ট প্রপোজাল বইয়ের লেখাগুলো যেমন প্রথমবার পড়লে মনে হয় যেন অতিরিক্ত সন্তানদের খেয়ে ফেলার ইঙ্গিত দিচ্ছে, ঠিক তেমনিভাবে ক্রেডল অব ফিলথ-এর অন্তর্নিহিত সার্কাজম একইসঙ্গে এটির অন্যত্রস্থিতি ও এটির অনুমতিপত্র– উভয়ই জানান দেয়।

এই ব্যান্ড ও এর দর্শক-শ্রোতা– উভয়েই এই কৌতুকের অন্তর্গত ও অংশ; আর এটিই তাদেরকে অন্যকিছু নয়, বরং সবচেয়ে রসজ্ঞানহীন সমালোচনা থেকে সুরক্ষা করে। এটি তাদের সেইসব অকথ্য কথা বলারও প্রেরণা যোগায়: তাই এলিজাবেথ ও গিলস– উভয়েই উৎকট সমাজের উৎকট পণ্য, যার ফলে ‘রাজবংশীয় জোটকে উত্যক্ত করা, এবং তাদের আরও বেশি অপ্রকৃতিস্থ করে তোলা’টাই [‘টু টিক ডাইনাস্টিক ইউনিয়ন/ অ্যান্ড বিগেট দেম ফারদার ম্যানিয়াকস’; ‘বিনিথ দ্য হাউলিং স্টার’ গানের অংশবিশেষ] এলিজাবেথ ও তার স্বামীর উদ্দেশ্য; কিংবা, গিলসের রয়েছে ‘সম্পদভীতি’ এবং ‘দুর্বলদের আঁকড়ে ধরছে সে’ [‘হিজ টাইটেনিং গ্রিপ অন দ্য উইক’; ‘ট্রাজিক কিংডম’ গানের অংশবিশেষ]।

উগ্রতা প্রকাশের জন্য কখনো কখনো উগ্রতার দরকার পড়েই; এই মনোভাবের কার্যকারিতা ক্রেডল অব ফিলথ হরদম ফুটিয়ে তুলছে।

আলেক্সান্ডার হে: মিউজিক জার্নালিস্ট, যুক্তরাজ্য
সূত্র: মেটাল মিউজিক স্টাডিজ; মিউজিক জার্নাল, ইউনিভার্সিটি অব সেন্ট্রাল ল্যাঙ্কাশায়ার, যুক্তরাজ্য; ২০১৬


ক্রেডল অব ফিলথ: বর্তমান লাইনআপ

বর্তমান লাইনআপ

ড্যানি ফিলথ [লিড ভোকাল; ১৯৯১-]
মার্টিন স্কারোপকা [ড্রামস, কীবোর্ডস; ২০০৬-]
ড্যানিয়েল ফার্থ [বেজ; ২০১২-]
রিচার্ড শ [গিটার; ২০১৪-]
মারেক স্মার্দা [গিটার; ২০১৪-]
অ্যানাবেল [কীবোর্ডস, ফিমেল ভোকাল; ২০২১-]

প্রাক্তন সদস্য

গিটার
পল রায়ান [১৯৯১-১৯৯৫]
পল অ্যালেন্ডার [১৯৯৩-১৯৯৫, ২০০০-২০১৪]
রবিন গ্রেভস [১৯৯২]
ঋষি মেহতা [১৯৯৪]
ব্রায়ান হিপ [১৯৯৪-১৯৯৫]
পল ম্যাকগ্লান [১৯৯৬]
ড্যারেন ডোনারুমা [১৯৯৯]
স্টুয়ার্ট অ্যান্সটিট [১৯৯৫-১৯৯৯]
জিয়ান পাইরেস [১৯৯৬-১৯৯৯; ২০০০-২০০২]
জেমস ম্যাকিলরয় [২০০৩-২০০৫; ২০০৯-২০১৪]
চার্লস হেজার [২০০৫-২০০৯]

বেজ
জন কেনেডি (জোনাথন প্রিচার্ড) [১৯৯১-১৯৯২; ১৯৯৪-১৯৯৫]
রবিন গ্রেভস [১৯৯২-১৯৯৪; ১৯৯৫-২০০২]
ডেভ বাইসআপ [২০০২-২০০৫; ২০০৫-২০১২]
চার্লস হেজার [২০০৫]

কীবোর্ডস
বেঞ্জামিন রায়ান [১৯৯১-১৯৯৪]
ড্যামিয়েন গ্রিগরি (গ্রেগ মোফিট) [১৯৯৪-১৯৯৭]
লেকটার (লেস স্মিথ) [১৯৯৭-১৯৯৯]
মার্ক নিউবাই-রবসন [১৯৯৯; ২০০৬-২০১১]
মার্টিন পাওয়েল [২০০০-২০০৫]
রোজি স্মিথ [২০০৫-২০১১]
অ্যাশলি এলিয়ন [২০০৯-২০১১]
ক্যারোলিন ক্যাম্পবেল [২০১০; ২০১১-২০১২]
লিন্ডসে স্কুলক্র্যাফট [২০১৩-২০২০]

ড্রামস
ড্যারেন গার্ডনার [১৯৯১-১৯৯২]
নিকোলাস বার্কার [১৯৯৩-১৯৯৯]
ওয়াজ সারগিংসন [১৯৯২; ১৯৯৯]
ডেভ হার্সহাইমার [১৯৯৯]
অ্যাড্রিয়ান এরল্যান্ডসন [১৯৯৯-২০০৬]

ফিমেল ভোকাল
আন্ড্রিয়া মায়ার [১৯৯৩-১৯৯৪]
ড্যানিয়েলা নিজনা কোটিংটন [১৯৯৪-১৯৯৮]
সারা জেজেবেল ডেভা (সারা জেন ফেরিজ) [১৯৯৬-২০০৮; ২০১১]
ক্রিস্টিনা [১৯৯৮]
ক্যারোলিন গ্রিটন [২০০৮]
লুসি অ্যাটকিন্স [২০১০-২০১২]
লিন্ডসে স্কুলক্র্যাফট [২০১৩-২০২০]

গেস্ট ভোকাল অথবা স্পোকেন ওয়ার্ড
ড্যারেন ‘ড্যাজ’ হোয়াইট [১৯৯৪]
ফ্রেটার নিহিল [১৯৯৪]
কনর‍্যাড ল্যান্ড (ক্রনোস) [১৯৯৫; ১৯৯৬]
ইংরিড পিট [১৯৯৮]
মার্টিন ওয়াকিয়ার [২০০০]
ডাগ ব্র্যাডলি [২০০০; ২০০৪; ২০০৬; ২০০৮]
ডেভ ম্যাকউইন [২০০৩]
লিভ ক্রিশটিন এস্পেনাস [২০০৪; ২০১৭]
কিং ডায়মন্ড [২০০৪]
ভিলা ভ্যালো [২০০৬]
স্টিভ গ্রিমেট [১৯৯৫; ২০১৬]


অ্যালবাম

স্টুডিও অ্যালবাম
দ্য প্রিন্সিপাল অব ইভল মেড ফ্লেশ [১৯৯৪]
ডাস্ক… অ্যান্ড হার এমব্রেস [১৯৯৬]
ক্রুয়েলটি অ্যান্ড দ্য বিস্ট [১৯৯৮]
মিডিয়ান [২০০০]
ড্যামনেশন অ্যান্ড অ্যা ডে [২০০৩]
নিমফেটামিন [২০০৪]
থর্নোগ্রাফি [২০০৬]
গডস্পিড অন দ্য ডেভিল’স থান্ডার [২০০৮]
ডার্কলি, ডার্কলি, ভেনাস আভার্সা [২০১০]
দ্য ম্যান্টিকোর অ্যান্ড আদার হররস [২০১২]
হ্যামার অব দ্য উইচেস [২০১৫]
ক্রিপ্টোরিয়ানা– দ্য সিডাক্টিভনেস অব ডিকে [২০১৭]
এক্সিসটেন্স ইজ ফিউটাল [২০২১]

লাইভ অ্যালবাম
লাইভ বেইট ফর দ্য ডেড [২০০২]
লাইভ অ্যাট ডায়নামো ওপেন এয়ার ১৯৯৭ [২০১৯]

কম্পাইলেশন অ্যালবাম
লাভক্র্যাফট অ্যান্ড উইচ হার্টস [২০০২]
মিডনাইট ইন দ্য ল্যাবারিন্থ [২০১২]

ইপি অ্যালবাম
ভি এম্পায়ার অর ডার্ক ফেয়ারিটেলস ইন ফালুস্টেইন
[১৯৯৬]
ফ্রম দ্য ক্রেডল টু এনস্লেভ [১৯৯৯]
বিটার স্যুটস টু সাকুবাই [২০০১]
এভারমোর ডার্কলি [২০১১]

ডেমো
ইনভোকিং দ্য আনক্লিন [১৯৯২]
অর্গিয়াস্টিক প্লিজারস ফাউল [১৯৯২]
টুটাল ফাকিং ডার্কনেস [১৯৯২]
ডাস্ক অ্যান্ড হার এমব্রেস: দ্য অরিজিনাল সিন [২০১৬]

সূত্র: উইকিপিডিয়া; জুন ২০২১
Print Friendly, PDF & Email
সম্পাদক : লালগান । ঢাকা, বাংলাদেশ।। মিউজিকের বই [অনুবাদ] : আমার জন লেনন [মূল : সিনথিয়া লেনন] ।। কবিতার বই : ওপেন এয়ার কনসার্টের কবিতা; র‍্যাম্পমডেলের বাথটাবে অন্ধ কচ্ছপ; হাড়ের গ্যারেজ; মেনিকিনের লাল ইতিহাস ।। সিনেমার বই [সম্পাদনা/অনুবাদ] : ফিল্মমেকারের ভাষা [৪ খণ্ড : ইরান, লাতিন, আফ্রিকা, কোরিয়া]; ফ্রাঁসোয়া ত্রুফো : প্রেম ও দেহগ্রস্ত ফিল্মমেকার; তারকোভস্কির ডায়েরি; স্মৃতির তারকোভস্কি; হিচকক-ত্রুফো কথোপকথন; কুরোসাওয়ার আত্মজীবনী; আন্তোনিওনির সিনে-জগত; কিয়ারোস্তামির সিনে-রাস্তা; সিনেঅলা [৩ খণ্ড]; বার্গম্যান/বারিমন; ডেভিড লিঞ্চের নোটবুক; ফেদেরিকো ফেল্লিনি; সাক্ষাৎ ফিল্মমেকার ফেদেরিকো ফেল্লিনি; সাক্ষাৎ ফিল্মমেকার ক্রিস্তফ কিয়েস্লোফস্কি; সাক্ষাৎ ফিল্মমেকার চান্তাল আকেরমান

জবাব দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here