ওয়ারগাজম: ক্রোধের নয়া অগ্নুৎপাত

0
100
ওয়ারগাজম

লিখেছেন: জ্যাক রিচার্ডসন
অনুবাদ: রুদ্র আরিফ


ওয়ারগাজম
ইলেকট্রো-পাংক, ন্যু-মেটাল, পোস্ট-হার্ডকোর ব্যান্ড; যুক্তরাজ্য । ২০১৮–


ওয়ারগাজম
ওয়ারগাজম

‘পছন্দের কোনোকিছুতে যদি আপনি নিজের প্রতিনিধিত্বের দেখা না পান, তার মানে সেই শূন্যস্থান পূরণ করে দেওয়ার সুযোগটা আপনার রয়েছে। যে মিউজিক আমরা শুনতে চেয়েছিলাম, সেই মিউজিক শুনতে পাইনি; ফলে নিজেরাই সেই মিউজিক সৃষ্টি শুরু করলাম; আর দৃশ্যপটে যে মানুষদের দেখতে চেয়েছিলাম, নিজেরাই সেই মানুষে পরিণত হলাম। এ কারণেই ওয়ারগাজম-এর যাত্রা শুরু।’

নির্ভীক লিডার হিসেবে মিল্কি ওয়ে এভাবেই জানান দিলেন ওয়ারগাজম সৃষ্টির রূপরেখা: এর সদস্যরা অল্টারনেটিভ মিউজিকে যে জিনিসের অভাব অনুভব করেছে, তা পূরণ করে দিতেই এই ব্যান্ড বা ডুয়োর জন্ম। এই ভোকালিস্ট কাম বেজিস্ট, এবং তার ব্যান্ডমেট– ভোকালিস্ট কাম গিটারিস্ট স্যাম ম্যাটলক নিজেদের চাওয়ামতো মিউজিক শুনতে, দৃশ্য দেখতে পাননি অল্টারনেটিভ দৃশ্যপটে। তাই নিজেরাই নিজেদের জন্য রোমাঞ্চকর, উসকানিমূলক ও বিপজ্জনক কিছু সৃষ্টির পথ বেছে নেন।

অনেকের চোখের ভবিষ্যতের বড় ব্যান্ডে রূপ নেওয়ার সম্ভাবনা রাখা ব্রিটিশ ব্যান্ড ডেড! ভেঙে পড়লে সেখান থেকে এই প্রকল্পে চলে আসেন স্যাম; অন্যদিকে মিল্কি তখন মডেলিংয়ের পাশাপাশি গায়ক-গীতিকার বার্নস কোর্টনির হয়ে একজন সেশন মিউজিশিয়ান হিসেবে কাজ করছিলেন।

২০০০-এর দশকের শুরুর দিকে রক দৃশ্যপটে লিনকিন পার্কলিম্প বিজকিট যেমন টাটকা তেজ এনে দিয়েছিল, সে রকমই কিছু করার আকাঙ্ক্ষা নিয়ে জোট বাঁধেন স্যাম ও মিল্কি। এরপর এ জুটি জ্যাম সেশনে কাটাতে থাকেন সময়; আর তাতে জোয়ার চলে আসে মিল্কির ফ্ল্যাটে স্যাম নিজের রেকর্ডিং ইক্যুপমেন্টগুলো নিয়ে আসার ফলে।

https://youtu.be/cMRkRoufQQ8
পোস্ট মডার্ন র‍্যাপসোডি। অফিসিয়াল অডিও

এই ব্যান্ডের অভিষেক সিঙ্গেল পোস্ট মডার্ন র‍্যাপসোডি প্রকাশ পায় ২০১৯ সালে। অ্যানার্কিক পাংকের এক জ্বলন্ত ডোজ এই ট্র্যাক ঘিরে শুরু হয়ে যায় গুঞ্জন। ইয়ংব্লাডক্রিপার ব্যান্ডের সঙ্গে ট্যুর শুরু করে ওয়ারগাজম; ডাউনলোড ও ব্লাডস্টকের ফেস্টিভ্যালগুলোতে লেখায় নাম। এ ছাড়া রেডিও ১-এর ড্যানিয়েল পি. কার্টার ও জ্যাক সন্ডার্সের সহযোগিতায় রেডিও প্লেতেও জায়গা করে নেয়।

২০২০ সালে মনস্টার সিঙ্গেল স্পিট এই জুটির পথচলা আরও শাণিত করে; হাজারও শ্রোতার কাছে পৌঁছে যায় তাদের চিৎকার, আর প্রমাণ করে– ঠিকঠাক করা গেলে ন্যু-মেটালের পক্ষে এখনো সমকালীন রক দৃশ্যপটে জায়গা করে নেওয়া সম্ভব।

স্পিট। লাইভ কনসার্ট

ন্যু-মেটাল, ইলেকট্রো-পাংক [ইউর পার্টন সেন্টস] ও র‍্যাপ-রকের [নার্ড-এর ল্যাপড্যান্সকে তাদের নতুন করে হাজির করা] মধ্যকার প্রতিটি ইঞ্চিকে কভার করা– সিঙ্গেলসের এমন এক বিস্তৃত ক্যাটালগের বদান্যতায় দারুণ বৈচিত্র্য অর্জন ও ক্রমাগত ভক্ত-অনুরাগী বৃদ্ধি ওয়ারগাজমকে নির্বিঘ্নে ভিন্ন ভিন্ন পরিবেশে জায়গা করে দেয়: কোনোদিন ইয়ংব্লাড-এর টিকটক-ক্ষুধার্ত বাহিনী, পরেরদিন ব্লাডস্টক-এর হাজারও ডাইহার্ড হেভি মেটালারদের সামনে পারফর্ম করতে থাকে ব্যান্ডটি।


এক
শোতে
হেভিয়েস্ট
ব্যান্ডের লাই-আপ
হিসেবে পারফর্ম করার
পর, পরের শোতে সবচেয়ে
‘পপ’ ব্যান্ডে পরিণত হই আমরা

ওয়ারগাজম-এর মাধ্যমে আমরা যা তৈরি করতে পেরেছি, তার মধ্যে আমার অন্যতম ভালোলাগার বিষয় হলো, আমাদের ডেমোগ্রাফিক ভীষণ বিস্তৃত: এক শোতে হেভিয়েস্ট ব্যান্ডের লাই-আপ হিসেবে পারফর্ম করার পর, পরের শোতে সবচেয়ে ‘পপ’ ব্যান্ডে পরিণত হই আমরা,” হাসিমুখে বলেন মিল্কি। “ওয়ারগাজম-এর কোনো গিগে হাজির থাকা যে কেউই আপনাকে বলে দিতে পারবে, আমাদের দর্শকদের ওপর এর কী রকম প্রতিফলন পড়ে: ব্যাটেল জ্যাকেট পরিহিত ওল্ড মেটাল ডুডস, কিশোরীরা, মায়েরা, পুঁচকে উদ্ভট পাংক… আমার দেখা, সম্ভবত ডলি পার্টনের কোনো শোয়ের কথা বাদ দিলে, এটিই সবচেয়ে বিস্তৃত ডেমোগ্রাফিক!”

https://youtu.be/SWkhLRZt-lI
ব্যাকইয়ার্ড বাস্টার্ডস। অফিসিয়াল মিউজিক ভিডিও

বিশেষত মিল্কির কাছে বিস্তৃত প্রতিনিধিত্ব খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দৃশ্যপটে শুধু ধ্বনিত শূন্যতা পূরণ করার আকাঙ্ক্ষা থেকেই ওয়ারগাজম-এর সদস্যরা ব্যান্ডটি গড়ে তোলেননি; বরং একজন সেশন মিউজিশিয়ান হিসেবে আমেরিকায় মিল্কির ট্যুর করার অভিজ্ঞতায় মঞ্চে গিটার হাতে নারীদের উপস্থিতি দর্শকের মনে কী আলোড়ন তোলে– সেটিও ভূমিকা রেখেছে।

‘যুক্তরাষ্ট্রে দেখেছি, শোয়ের পরে মেয়েরা আমার কাছে ছুটে এসে বলে, তারা কখনোই মঞ্চে কোনো নারীকে গিটার বাজাতে দেখেনি,’ স্মৃতিচারণ করেন মিল্কি। ‘দর্শকের সামনে নিজেকে ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ কেউ হিসেবে অবস্থান তৈরি করে নেওয়া– ব্যাপারটা আমার কাছে যা-তা রকমের মাথানষ্ট করে দেওয়ার ছিল।’

মাথানষ্ট করে দেওয়ার মুহূর্তের কথা তুললে, সেটি ছিল ২০২১ সালের ঘটনা। ডাউনলোড পাইলটে ওয়ারগাজম-এর সেই ইলেকট্রিক অ্যাপেয়ারেন্স ব্যান্ডটির সম্ভাবনার প্রশ্নে বিশেষ কিছু বিষয় নিশ্চিত করে দিয়েছিল। বহু মাস ঘরের ভেতরে বদ্ধ সময় কাটানোর পর মূল মঞ্চ মাতাতে এসে নিজেদের প্রমাণ করতে গিয়ে স্যাম ও মিল্কি তাদের পারফরম্যান্সকে বিষ দিয়ে আক্রমণ করে বসেছিলেন; জয় করেছেন অনভ্যস্ততা; আর শেষ পর্যন্ত এমনসব ভক্ত তৈরি করতে পেরেছেন– যারা লকডাউনের ফাঁকে ব্যান্ডটির আত্মস্থ করা সব ধরনের উন্মত্ততার প্রেমে পড়ে যায়।

https://youtu.be/c_1hPNQfSpQ
ড্রিল্ডো। অফিসিয়াল মিউজিক ভিডিও

এ পারফরম্যান্স স্যাম ও মিল্কির কাছে ওয়ারগাজম ব্যান্ডের মাধ্যমে নিজেদের সব সময়ের চাওয়া অর্জন করতে পারার বিশ্বাসকে পুনঃনিশ্চিত করে দেয়।

‘আমাদের ফ্যান আসলে কেমন হবে, কিংবা আদৌ কোনো ফ্যান থাকবে কি না– এসব ব্যাপারে সে সময়ে আমাদের কোনো ধারণাই ছিল না,’ স্বীকার করেন স্যাম। ‘কিন্তু মঞ্চে স্পিট পারফর্ম করার সময় আমরা যে স্পৃহা অনুভব করেছি এবং দর্শকদের কাছ থেকে যে সমীহ পেয়েছি, আসলেই দারুণ। আমার কাছে, সেটিই ছিল কোনো গিয়ার কিক-আপ করার মুহূর্ত; তারপর থেকে সবকিছুই লেগেছে বিশেষ রকম।’

ডাউনলোড পাইলট ছিল নিঃসন্দেহে ওয়ারগাজম-এর জন্য একটি বিরাট মুহূর্ত; এক ধরনের পুনর্জন্ম। তাদের ফেনোমেনার সত্যিকারের উৎপত্তি অবশ্য আরও দূর অতীতে নিহিত। এই মানিকজোড়ের অর্ধেকের শিকড় প্রোথিত নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের প্রত্যন্ত অঞ্চলে; আরেকটু বেশি ওয়েলকামিং দুনিয়া আবিষ্কারের আকাঙ্ক্ষা ছিল তার যেখানে নিজেদের সৃজনশীলতার ঝঙ্কার ঘটাতে পারবেন। অন্যদিকে বাকি অর্ধেকের জন্য ওয়ারগাজম হাজির করেছিল একটি রক-এন-রোল বিস্ফোরণের ধ্বংসাবশেষ থেকে নিজেকে টেনে বের করে প্রাণবাঁচানোর ব্যাপার।

https://youtu.be/9DBSECo-9co
ল্যাপড্যান্স। অফিসিয়াল মিউজিক ভিডিও

নর্দার্ন আইরিশ উপকূলে বেড়ে ওঠা মিল্কির জন্য ওয়ারগাজম শেষ পর্যন্ত যে রূপ নিয়েছে, সেই পরিবেশের অংশ হতে পারাটা ছিল ভাবনারও বহু দূরের ব্যাপার। তিনি বেজ গিটার হাতে তুলে নেন ১৫ বছর বয়সে; তবে নিজের মানসিকতার সঙ্গে মিলে– এমন সঙ্গীসাথীর সঙ্গে একটি ব্যান্ডে যোগ দেওয়ার আকাঙ্ক্ষা তার আগে থেকেই ছিল। কিন্তু ‘তারা তাদের গ্রুপে আসলে কোনো মেয়েকে চায়নি,’ দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলেন মিল্কি।

তবে তার প্রথমদিকের মিউজিক কীর্তিকলাপ ছিল মূলত একজন ‘বেডরুম বেজিস্টে’র চেয়ে খানিকটা বেশি কিছু। স্থানীয় মিউজিক্যাল থিয়েটার প্রোডাকশনগুলোতে পারফর্ম করার মধ্য দিয়ে নিজের ভেতর সৃজনশীলতার দম তিনি কোনো না কোনোভাবে ধরে রাখেন ঠিকই, কিন্তু নিজের চারপাশ ঘিরে হতাশা তার মধ্যে রয়েই যায়।

‘উঠতি বয়সী কোনো সৃজনশীল ব্যক্তিই আয়ারল্যান্ডে থাকে না, এটা একটা কারণ,’ বলেন মিল্কি। “এ খুবই লজ্জার ব্যাপার; কিন্তু ওইসব প্রান্তিক এলাকায় সৃজনশীলতাকে সমর্থন দেওয়ার মতো অবকাঠামো আসলে নেই। তাই আমার স্রেফ ওখান থেকে চলে আসার দরকার ছিলই। লন্ডনে চলে আসামাত্রই আমি ফ্যাশন ও মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিতে বন্ধুত্ব গড়তে শুরু করলাম; সবই কাজে দিলো। ব্যাপারটা এমন ছিল, ‘এখানে আমি এসেছি, তার মানে চারপাশে নিজের মানসিকতার লোকজন পাব– এমন আশা ছাড়তে হবে আমাকে।’”

শুরুতে ফ্যাশন নিয়ে পড়াশোনা করলেও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ড্রপ-আউট হয়ে মিল্কি নিজের ডিসপোজেবল ক্যামেরা নিয়ে যেসব গিগে হাজির হতেন, সেখানে গিয়ে অন্যদের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়তে শুরু করলেন; আর এই প্রক্রিয়ায়ই পরিচিত হয়ে ওঠলেন দ্য গার্ল ইন দ্য পিট-এর সঙ্গে। এই প্রকল্পের সূত্রেই পরবর্তীকালে স্যামের সঙ্গে পরিচয় তার। ফটোগ্রাফির পাশাপাশি মডেলিংও করতেন মিল্কি; এমনকি সে কাজে সুদূর টোকিওতেও গিয়েছেন। এর পাশাপাশি বেজ প্লোয়ার হিসেবে ট্যুর করেছেন বার্নস কোর্টনির সঙ্গে।

স্যামের ক্ষেত্রে ওয়ারগাজম গড়ে তোলার সময়কালটি ছিল খানিকটা নিরানন্দের। ডেড!-এর গিটারিস্ট হিসেবে রকস্টারের সাফল্যের স্বাদ তিনি আগেই পেয়েছিলেন। হটলি-টিপড ইউকে আউটফিটে হাজির হয়েছিলেন ডাউনলোড, স্ল্যাম ডাংক ও রিডিং অ্যান্ড লিডসে। এমনকি কেরাং!-এর ২০১৮ সালের হটেস্ট ব্যান্ডের তালিকায়ও জায়গা করে নিয়েছিল তার ব্যান্ড। একই বছর মুক্তি পাওয়া ডেড!-এর অভিষেক অ্যালবাম দ্য গোল্ডেন এইজ অব নট ইভেন ট্রাইং বেশ ইতিবাচক সাড়া ফেলেছিল। কিন্তু এর মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই চার সদস্যের ব্যান্ডটি নিজেদের ভাঙনের ঘোষণা দিয়ে ফেলে!

https://youtu.be/Wwn2Qao18vY
ইউর প্যাট্রন সেন্টস। অফিসিয়াল মিউজিক ভিডিও

“ইন্ডাস্ট্রি ডেড!কে একটি ইমো ব্যান্ড হিসেবে গণ্য করত; অথচ আমার সব সময়ই মনে হতো, আমরা ভীষণ ডিআইওয়াই আউটফিট,’ বলেন স্যাম। ‘পুরো ব্যাপারটার মধ্যে একটা সত্যিকারের সোহো পাংক আচরণ ছিল; কিন্তু তারপর বাকি সব উৎকৃষ্ট রক-এন-রোল ব্যান্ড যা করেছে, আমাদেরও তা করারই ছিল– একটি নির্দিষ্ট পর্যায়ে বিস্ফোরণ ঘটানো। সেটা যখন ঘটল, আমি পুরোদস্তুর হতাশ। আবারও পানশালার চাকরিতে ফিরে গেলাম। মনে হলো, মিউজিকের প্রতি অনুরাগ ও ভালোবাসা খুইয়ে ফেলেছি। সে ছিল এক উদ্ভট অনুভূতি। কেননা, অবচেতনে আমাকে আমার মাথার ভেতর থেকে কিছু কণ্ঠস্বর বরাবরই বলতে লাগল, যেন গিটার বাজাই, গান লিখি।’

ডেড!-এর সময়েই মিল্কিও সঙ্গে পরিচয় স্যামের: ‘গার্ল ইন দ্য পিট’প্রকল্পের জন্য ডেড!-এর একটা শোয়ের শুট করতে ওকে [মিল্কি] ডেকেছিল আমাদের ম্যানেজার। মনে পড়ে, সেখানে ওই সোনালি চুলের পুঁচকে মেয়েটা ঘুরঘুর করছিল আর সবাইকে কুপোকাৎ করে দিচ্ছিল!’– হাসতে হাসতে বলেন স্যাম। আর এভাবেই তাদের মধ্যে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে।

আড্ডাবাজি, আর ন্যু-মেটাল, অ্যানিম, ট্যারান্টিনোর সিনেমা ও ফ্যাশনের প্রতি পরস্পরের ভালোলাগা ভাগাভাগি করতে করতে মিল্কির কাছে স্যাম জানতে চান, একটা গানে দুজনে একসঙ্গে কাজ করার যে আইডিয়া তার মাথায় রয়েছে, সেখানে তিনি যোগ দেবেন কি না। দুজনের মধ্যে ইতোমধ্যেই বন্ধুত্ব হয়ে যাওয়ায় ব্যাপারটা ভালোই ছিল; কেননা, স্যামের প্রাথমিক যে আইডিয়া ছিল, সেগুলোর আসলে আদৌ প্রশংসা করেননি মিল্কি।

“আমি বললাম, ‘আরে, ওটা তো ফালতু গান।’ এ নিয়ে আরও কাজ করতে হবে,” মুচকি হেসে বলেন মিল্কি। “সহসাই আমরা দুজন একটা পর্যায়ে পৌঁছে গেলাম; তারপর ট্র্যাকগুলোর রেকর্ডিং করে ইন্ডাস্ট্রির অন্যদের শোনালাম; আর তারা বলল, ‘আরে, দারুণ তো!’”

“নতুন একটি প্রকল্প করতে চাই– এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় আমি জানতাম, সেটা একটা ‘রায়ট গার্ল’ ভঙিমায় নারী ভোকাল ও আরও দুটি চরিত্র নিয়ে করতে চাই, যেখানে আপনি মিউজিক নিয়ে একটি গল্প ও একটি আলাপের দুটি দিকের দেখা পাবেন,” বলেন স্যাম। ‘আর ঠিক এ কারণেই মিল্কি এলো দলে। কিথ ফ্লিন্ট ও কোর্টনি লাভের কোলাবরেশন থেকে যে এই আইডিয়া এসেছে, তা কিন্তু মোটেও নয়।’


এনার্জির
একটা ফুসকুড়ি
ছড়িয়ে, ন্যু-মেটালের
ফাইনেস্ট পার্টি-স্টার্টারের
অনুরণন তোলেন স্যাম; তবু
বেশিরভাগ সময় শোয়ের
সব মনোযোগ নিজের
দিকেই টেনে নেন
মিল্কি…

এ এক সাহসী তুলনা। তবে স্যাম ও মিল্কির মধ্যে একটি অনস্বীকার্য স্পৃহা ছিল, যেটি আজকের দিনের রক দৃশ্যপটের বিচারে তুলনারহিত। ডাউনলোডে যারা এই জুটিতে পারফর্ম করতে কিংবা নিজেদের ‘কে! পিট’ সেট তাদের ছিঁড়ে ফেলতে দেখেছেন, তারা এই মানিকজোড়েরর ‘র’ ও ‘রাউডি’ ডুয়েলিটির ব্যাপারে নিশ্চিতভাবেই অবগত থাকবেন, তা ওরা যেখানেই পারফর্ম করুন না কেন। দুজনের পারফর্মের মধ্যেই রয়েছে ভাব: এনার্জির একটা ফুসকুড়ি ছড়িয়ে, ন্যু-মেটালের ফাইনেস্ট পার্টি-স্টার্টারের অনুরণন তোলেন স্যাম; তবু বেশিরভাগ সময় শোয়ের সব মনোযোগ নিজের দিকেই টেনে নেন মিল্কি। ডনিংটনে এ তরুণীর পারফরম্যান্সের সময় তাকে কেরাং! যথাযোগ্যই অভিহিত করেছিল– “একজন চরম ‘ফাকিং’ রকস্টার… পাংক-রক পিক্সিতে একটা ‘দুঃস্বপ্ন’।”

এই মুহূর্তে ওয়ারগাজম-এর মতো আর কিছুই নেই; আর এই দুজনের মধ্যকার সম্পর্ককে স্যাম দেখেন নিজেকে ও মিল্কিকে আলাদা করে।

‘‘দ্য এজ ও বুনো’ এবং ‘স্ল্যাশঅ্যাক্সেল’– রক দৃশ্যপটে এ রকম অনেক ক্লাসিক সম্পর্ক রয়েছে, যারা পরস্পর আগুন ও বরফ,’ বলেন তিনি। “আমার অনুমান, আমরা দুজনই ‘আগুন ও আগুন’ বলেই ওয়ারগাজম ভিন্ন কিছু করছে; আমার ধারণা, দুনিয়া এখন খানিকটা এ রকম কিছুই চায়।”

ভুল বলেননি তিনি। কোনো শো না করে কিংবা ভক্তদের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ না পেয়ে কয়েক বছর লকডাউনে কাটানোর পর, আবেগাত্মক মুক্তি হয়ে উঠেছিল শুধুমাত্র লাইভ মিউজিক; আর তা একটি উন্মত্ত গতিতে ওয়ারগাজমকে ফলোয়ার অর্জনের পথ করে দিয়েছিল, তাতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। তাদের লাইভ খ্যাতি ইতোমধ্যেই উত্তেজনাপূর্ণভাবে বিস্তৃত হয়ে গেছে ঠিকই, তবে এই জুটির সামনে ২০২২ হতে যাচ্ছে একটি ব্যস্ত বছর। তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষার এক পরীক্ষা। বড় বড় শো ও বড় বড় পরিকল্পনার চাপে স্যাম ও মিল্কি নিজেদের দম দেখাচ্ছেন; ওয়ারগাজম বড় হয়ে উঠছে আধুনিক রক বেহেমথে, যা হয়ে ওঠার হুমকি আগে থেকেই ছিল।

সম্প্রতি নেক ডিপ ব্যান্ডের প্রধান সাপোর্ট হিসেবে একটি অতিকায় যুক্তরাজ্য ট্যুর করেছে ওয়ারগাজম। নিজেদের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় মঞ্চগুলোর কয়েকটিতে পা রেখেছেন স্যাম ও মিল্কি; যার মধ্যে লন্ডনের কিংবদন্তিতুল্য ওটু একাডেমি ব্রিক্সটনে ৫০০০ দর্শকের সামনে পারফর্মের ঘটনাও রয়েছে। স্যাম স্বীকার করেন, ‘বড় মঞ্চের প্রোডাকশন করার মতো আর্থিক সামর্থ্য আমাদের হয়নি,’ তাই এই ব্যান্ড একইসঙ্গে নার্ভাস ও রোমাঞ্চিত; তবু তারা ওয়ারগাজমকে আরও বড় অবস্থায় নিয়ে যেতে সদাপ্রস্তুত।

https://youtu.be/eIoQ03a27zY
এলএসডি। ভার্চুয়াল লাইভ

এ বছরই প্রকাশ পেতে যাচ্ছে ব্যান্ডটির অভিষেক অ্যালবাম। ‘এটিকে হাইব্রিড থিওরি স্তরের হতেই হবে, আমরা এমন কথা সব সময়ই বলে আসছি; যদি তা না হয়, তাহলে অ্যালবামই করব না,’ বলেন মিল্কি; কিন্তু নিজেদের অতীত সংযম সত্ত্বেও কার্যক্রম দেখে অনুমান করাই যায়, অ্যালবামের কাজ ভালোভাবেই এগোচ্ছে।

‘সত্যি কথা বলতে, কাজ প্রায় শেষের দিকে,’ ওয়ারগাজম-এর অভিষেক অ্যালবাম প্রসঙ্গে বলেন স্যাম। ‘ওয়ারগাজম বরাবর যেভাবে কাজ করে অভ্যস্ত, তা হলো– যখন নিজেদের কাছে পছন্দ হচ্ছে, তখনই ট্র্যাক রিলিজ দিই আমরা; আর তা দর্শক-শ্রোতার মধ্যে সাড়া ফেলে দেয়। তবে আমাদের দুজনেরই মনে হচ্ছে, খানিকটা আরও বেশি দৃঢ় কিছু প্রকাশের সময় এসে গেছে। অ্যালবামটা প্রকাশের পথেই রয়েছে, আসলে।’

তাহলে অন্তরের পরিবর্তনের কী মানে? কেন ও কখন একটি বিজয়ী ফর্মুলা খননের ভেতর দিয়ে সাফল্য পাওয়ার জন্য অ্যালবামের প্রচারণা শুরু হবে? ওয়ারগাজম-এর অ্যালবাম বের হওয়ার এখনো উপযুক্ত সময় নয় কেন?

“ম্যাগাজিনে বহুজনকে আমি বলতে দেখেছি, ‘আমি নির্ভানার মাধ্যমে অনুপ্রাণিত। আমার কাছে এর তাৎপর্য বিরাট। এ নিয়ে আমি গর্বিত।’ অন্যদিকে আমি বলি, ‘আপনি কি আসলেই নিজেকে ফাকিং নির্ভানার সঙ্গে তুলনা করে সন্তুষ্ট?’”– হাসতে হাসতে বলেন স্যাম। ‘লোকে ট্র্যাক রিলিজ দেয় আর তা নিয়ে গর্বে ভোগে। কিন্তু আপনার মনে রাখা উচিত, মিউজিকের ইতিহাসে দ্য প্রডিজি [ব্যান্ড] একদিন ফায়ারস্টার্টার ট্র্যাকটি রিলিজ করেছিল, এবং এমনকি রেডিওতেও এটির কোনো প্রিমিয়ার হয়নি, আর সেই ট্র্যাকই হলো ফাকিং স্ট্যান্ডার্ড, বুঝলেন?’


‘ওরে
চোদন,
অ্যালবামটা তো আর
বের না হলে
চলছে
না!’

‘একজন গীতিকারের ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে আমাদের কিছু বলার আছে,’ বলেন তিনি। “তার মানে, আপনি সব সময়ই আগের চেয়ে ভালো কিছু করতে, নিজেকে সব সময়ই অন্বেষণ ও বিবর্তনে রত করতে চাইবেন; অ্যালবামে এর স্বাক্ষর থাকা চাই। আমরা এমন একটা পর্যায়ে যেতে চাই, যখন নিজেদেরই মনে হবে, ‘ওরে চোদন, অ্যালবামটা তো আর বের না হলে চলছে না!’”

‘আমরা জানি, অ্যালবাম রিলিজ করতে প্রস্তুত রয়েছে– সে পর্যায়ে এখন পৌঁছে গিয়েছি আমরা,’ যোগ করেন মিল্কি। “কেননা, ওয়ারগাজম-এর অংশ হওয়ার সবচেয়ে কঠিন ব্যাপার হলো, আমাদের এইসব ‘ফালতু’ গানগুলো নিয়ে বর্তমানে বহু কথাবার্তা ছড়িয়ে যাচ্ছে! গানগুলো ভয়ংকর রকমের দারুণ। আমার খুবই পছন্দ। লোকেও এগুলো শুনুক, সেই তর সইছে না আমার।”

লাইভ কনসার্ট

কথাগুলো শুনতে হয়তো ধৃষ্টতাপূর্ণ। কিন্তু ওয়ারগাজম কখনোই নিজেদের কাজ সম্পর্কে বিনয়ী নির্লিপ্ত নয়। তারা জানে, তাদের মধ্যে বিশেষ কিছু রয়েছে; তারা জানে, তারা আলাদা; তারা জানে, যেখানেই তারা যাক না কেন, আরও বেশি মানুষের মন জয় করে নিতে পারবে স্বঘোষিত নিজেদের ‘বিষণ্ন মানুষের জন্য ক্রোধের গান’গুলো দিয়ে।

যুক্তরাজ্যের উদ্ভাবনী, রাগি ও আবেগী শিল্পীদের চলমান স্রোতে ওয়ারগাজম একটি চাবিকাঠি; তাদের নিজেদের মতো করে, নিজেদের গতিময়তায় কিছু বলার আছে। অতিমারি-উত্তর দুনিয়ায় যুক্তরাজ্যের রক দৃশ্যপটকে আরও বেশি রোমাঞ্চিত করে তোলা নিজেদের সহযোদ্ধা নোভা টুইনস, ট্র্যাশ বোট, স্টেটিক ড্রেস ও কিলার ব্যান্ডগুলোর অগ্নুৎপাতের মতো ওয়ারগাজমও দেখা ও শোনার দুনিয়ায় পরিবর্তন বয়ে আনতে বদ্ধপরিকর।


উৎকণ্ঠার এ যুগে মানুষের
আসলেই অগ্নৎপাতের
অনুভূতি নেওয়া
দরকার

‘মিউজিকে পরায়নবাদ ও ক্যাথারসিস আমার পছন্দ। আমি মনে করি, উৎকণ্ঠার এ যুগে মানুষের আসলেই অগ্নৎপাতের অনুভূতি নেওয়া দরকার,’ ওয়ারগাজম-এর উদ্দেশ্য ঘিরে বলেন স্যাম। “মঞ্চে লাফিয়ে উঠে চিৎকার করে এইসব ‘মলমূত্র’ ঘিরে বলা কথাগুলোর প্রয়োজনীয়তা অনেকেই উপলব্ধি করতে পারবেন। এখন সব মানুষই ক্ষুব্ধ এবং সবাই বিশ্রি রকমের বিষাদগ্রস্ত; আর এ কারণেই বিষণ্ন মানুষদের জন্য ক্রোধের গান বানাই আমরা।”

নিজের ব্যান্ডমেটের কাছ থেকে কথা কেড়ে নিয়ে মিল্কি জানিয়ে দিলেন ওয়ারগাজম-এর আসল উদ্দেশ্য: ‘আমরা ক্যাওয়াজের পক্ষের লোক।’


ঈষৎ সংক্ষেপিত ও পরিমার্জিত
জ্যাক রিচার্ডসন: ফ্রিল্যান্স মিউজিক জার্নালিস্ট, কেরাং!
সূত্র: কেরাং!; মিউজিক ম্যাগাজিন, যুক্তরাজ্য; ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২২

ওয়ারগাজম
ওয়ারগাজমমিল্কি ওয়েস্যাম ম্যাটলক

ওয়ারগাজম

লাইন-আপ

মিল্কি ওয়ে [ভোকাল, বেজ]
স্যাম ম্যাটলক [ভোকাল, গিটার]

সাপোর্টিং লাইভ মেম্বার

এডিসন হান্টার [গিটার; ২০১৯–]
অ্যাডাম ব্রিজ [ড্রামস; ২০১৯–]
রায়ান কর্নেল [ড্রামস; ২০১৯–২০২১]

Print Friendly, PDF & Email