‘শিরোনামহীন’ নিয়ে জিয়ার সঙ্গে দীর্ঘ আলাপ [৩]

0
202
শিরোনামহীন

সাক্ষাৎকার: রুদ্র আরিফ

জিয়াউর রহমান। জিয়া নামেই বেশি খ্যাত। তুমুল জনপ্রিয় রক গ্রুপ ‘শিরোনামহীন’-এর প্রতিষ্ঠাতা, ব্যান্ড লিডার ও বেজিস্ট। ব্যান্ডটির বেশির ভাগ জনপ্রিয় গানের কথা ও সুর তারই। ‘শিরোনামহীন’কে ঘিরে ‘লালগান’-এর পক্ষে তার সঙ্গে দীর্ঘ এ আলাপটি হয় ৭ জুলাই ২০২১, ঢাকায় তার বাসায়। শ্রুতিলিখনজনিত বিড়ম্বনায় প্রকাশে খানিকটা বিলম্ব হলো। শ্রুতিলিখনে ইচ্ছেকৃতভাবে মুখের ভাষা অবিকল রাখা হয়েছে; সম্পাদনার নামে ‘মার্জিত’ করা হয়নি। দীর্ঘ এ আলাপটি কয়েক কিস্তিতে প্রকাশ করা হচ্ছে এখানে। এ বেলা রইল তৃতীয় কিস্তি…


আরও পড়ুন: প্রথম কিস্তিদ্বিতীয় কিস্তি


শিরোনামহীন
জিয়াউর রহমান জিয়া। ছবি: শিরোনামহীনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট

কিস্তি । ৩

রুদ্র আরিফ :: আমি একজন শিরোনামহীন শ্রোতা হিসাবে যেটাতে ডিস্টার্ব ফিল করছি, সেটা হচ্ছে রবীন্দ্রনাথ। তিন নম্বর অ্যালবামের পর রবীন্দ্রনাথের গানের অ্যালবাম কেন করতে হলো শিরোনামহীনকে? কেন ডিস্টার্ব ফিল করছি– এইটা আমি বলতে চাই এই জায়গা থেকে, পুরান গান কেন আমি শুনব শিরোনামহীন-এর কাছে, প্রথম কথা…

জিয়াউর রহমান জিয়া :: …অ্যাবসুলেটলি…!

রুদ্র :: …দ্বিতীয় কথা হচ্ছে, অইখানে কেন একজন রবীন্দ্রসংগীত শিল্পীর সার্টিফিকেট লাগবে?

জিয়া :: আচ্ছা! এইটা… এইটা আমি অ্যাগ্রি উইথ ইউ; এবং কিছু মানুষ থাকে না– যার কাভার নিয়ে এলার্জি আছে? আমি হচ্ছি অই মানুষটা। আমি আমার লাইফে কাভার অলমোস্ট করিনি। কাভার করেছি শুধু শেখার জন্য। এবং মেটালিকা, মেগাডেথ… এগুলা আমি স্টপ মোশন দিয়ে, ওই টেপ দিয়ে তুলেছিলাম। শেখার জন্য। নয়তো আমি গিটার কীভাবে শিখব? ওটা ছিল আমার লার্নিং। কিন্তু ওটাকে ব্যবহার করার ইচ্ছা আমার কোনোদিন ছিল না। এবং আমি করিনি।

দেন অ্যাগেইন, আমাদের ব্যান্ডের… যেহেতু আমাদের ব্যান্ড পাঁচজনের ব্যান্ড, সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নেওয়ার একটা বিষয় থাকে, এবং সেই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াটা স্ট্রংলি আমাদের ব্যান্ডে সবসময় ছিল, এখনো আছে, স্টিল নাউ– আছে। যদিও এখনকার মেম্বাররা বয়সে অনেক ছোট, তারপরেও কিন্তু সেই গণতান্ত্রিক প্র্যাকটিসটা আমাদের মধ্য থেকে হারিয়ে যায়নি; আছে– সবার মতামতের গুরুত্ব সহকারে।

সো, আমাদের তখনকার ভোকাল ছিল তুহিন। হি সাজেস্টেড, যে, সে আসলে রবীন্দ্রসংগীতের একটা অ্যালবাম করতে চায়, ব্যান্ড তাকে হেল্প করবে কি না। ইট ওয়াজ অ্যা লাইক… মানে, জেন্টলম্যান জেসচার্স টু অ্যাগ্রি উইথ হিম। যে কারণে আমি অ্যাগ্রি করেছিলাম। ইট’স নট যে, ওটা আমি করতে চাই বা ওটা আমার খুব ফেভারিট– তা না; আমি অ্যাগ্রি করেছিলাম অন ফিউ পয়েন্টস: ওকে, ঠিকাছে, তার খুব ফেভারিট, এটাকে আমি রেসপেক্ট করি।

সেকেন্ডলি হচ্ছে, ও রবীন্দ্রসংগীত গাইতে পারে, আর দশজন ব্যান্ড আর্টিস্টদের অনেকের তো ক্যাপাসিটিতেও হবে না– ভালো করে গাইতে পারবে। ও শিখেছে; সো, ও আমাদেরকে গাইড করে আগাতে পারবে– এটা আমি বিলিভ করতাম, হুইচ ডিডেন্ট হ্যাপেন। কারণ, দেখা গেল, ও আসলে… মানে, যেটাকে বলা হয় যে, বাই-দ্য-বুক শিখলাম: নজরুল সংগীত সে শিখেছে, রবীন্দ্রসংগীত সে শেখে নাই।

সেইক্ষেত্রে, রবীন্দ্রসংগীত নিয়ে আমরা যখন কাজ করতে শুরু করলাম, আমরা কিন্তু ‘গীতবিতান’ ও ‘স্বরলিপি’ নিয়ে বসেছিলাম। এবং স্বরলিপি… আমি জীবনেও জানতাম না– স্বরলিপি কী; কিন্তু স্বরলিপি আমি তখন শিখলাম। শিখে সেটাকে প্রোপার নোটেশনে আমাকে উল্টা তখন গাইড করতে হইছে; কারণ, অইটা হচ্ছে বাই-দ্য-বুক– সুরটা আসলে ‘এইটা’। রবীন্দ্রনাথ ‘এইটা’ বলছে। ইউ ক্যান নট সুপ্রাসিভ রবীন্দ্রনাথ; কারণ, রবীন্দ্রনাথ ওয়াজ দ্য ক্রিয়েটর, ওনার গান করতে গেলে ওনার কথা শুনতে হবে। সো, দ্যাট ওয়াজ দ্য ওয়ে অব ডেলিভারিং রবীন্দ্রসংগীত, আমাদের রবীন্দ্রসংগীত।

শিরোনামহীন রবীন্দ্রনাথ । অ্যালবাম কাভার

বাট দেন অ্যাগেইন, ওইটা করা বা ওইটার উপরে নির্ভর করা– ওইটা আমার উদ্দেশ্য ছিল না; উদ্দেশ্যটা ছিল এ রকম, যারা আমাদের লিসেনার, তাদের সাথে রবীন্দ্রসংগীতের একটা পরিচয় করিয়ে দেওয়া। এই উদ্দেশ্যটাকে আমি রিসিভ করেছিলাম। বাকি অন্য উদ্দেশ্যগুলোকে আমি ব্যক্তিগতভাবে রিসিভ করিনি; কিন্তু আমি ব্যান্ডের সিদ্ধান্তের সাথে একমত হয়েছি, এবং আমি সেটাতে ডিনাই করিনি, ভেটো দেইনি, এবং সেটা একটা মিউচুয়াল রেসপন্ড। ইট’স নট অ্যাকচুয়ালি মাই ফেভারিট অ্যালবাম।

এবং, আমার কাছে বরং মনে হয়েছে, আমাদের একটা গতি ছিল। প্রথম যে তিনটা অ্যালবাম ডেলিভার করলাম, প্রতিটা সাকসেসফুল। আমরা তখনই আমাদের নেক্সট অ্যালবামটা মৌলিক অ্যালবামই ডেলিভার করব, এবং তারপরও আরেকটা অ্যালবাম করব– যেটা হচ্ছে মৌলিক অ্যালবাম, এবং তারপরে যদি আরও একটা অ্যালবাম করি, তাইলে সেটাও মৌলিক অ্যালবামই হবে। ইট শ্যুড বি লাইক দ্যাট। তাহলে আমরা বেশি গান আমাদের মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিতে কন্ট্রিবিউট করতে পারব।


যদি
কেউ কাভার
করে সেটা থেকে ফ্রুট
উপার্জন করার চেষ্টা করে–
সেটা ফেইমে হোক,
সেটা অর্থে হোক,
ফিন্যান্সিয়ালি
হোক– সেটা আমার টপিক না

সেটাকে যদি কেউ কাভার করে সেটা থেকে ফ্রুট উপার্জন করার চেষ্টা করে– সেটা ফেইমে হোক, সেটা অর্থে হোক, ফিন্যান্সিয়ালি হোক– সেটা আমার টপিক না। আমার টপিক হচ্ছে কন্ট্রিবিউট করা; মৌলিক গান কন্ট্রিবিউট করতে পারব। একটা কাভার গান তো কখনো কন্ট্রিবিউট করতে পারে না। রবীন্দ্রনাথও এই গানগুলা অলরেডি কন্ট্রিবিউটই করেছেন। তার মানে, আমরা আসলে সেইখান থেকে ফ্রুট নেওয়ার চেষ্টা করলাম। আমরা কিন্তু কন্ট্রিবিউট করলাম না। আমরা একটা নতুন প্যাকেট তৈরি দিলাম, যে প্যাকেটটা ওনার প্যাকেটের মতো না, ডিফারেন্ট একটা প্যাকেট। সো, প্যাকেটটার একটা কালার আছে, সেই কালারটা হয়তো অনেকের কাছে পছন্দ হবে– দ্যাট’স ইট। এটা একটা প্যাকেট। এটার ভেতরের কন্টেন্টটা না। কন্টেন্টটা উনি তৈরি করেছেন; শিরোনামহীন নয়। সো, দ্যাট’স মাই পয়েন্ট।

আই অ্যাগ্রি উইথ ইউ। আমি নিজেও ওটা সাপোর্ট করিনি।

রুদ্র :: আপনাদের ব্যান্ডের লাস্ট অ্যালবাম ’১৩ তে, শিরোনামহীন শিরোনামহীন

জিয়া :: …২০১৩…

রুদ্র :: …তার পরে আমরা দেখলাম, আমাদের এখানে অনলাইন… আমরা তো লাকি যে, ট্রাঞ্জিশন পিরিয়ডটা পাইছি, এনালগ থেকে ডিজিটালের মধ্য দিয়ে আমরা বড় হইছি…

জিয়া :: …হ্যাঁ…

রুদ্র :: … দেন, অ্যালবাম রিলিজ হওয়ার ব্যাপারটাই তো এক ধরনের উঠে গেল…

জিয়া :: …একদম…

রুদ্র :: … আর, আনফরচুনেটলি আমাদের এখানে কনসার্ট নানা কারণে বন্ধ হয়ে গেল। বন্ধ হয়ে গেল মানে, ওপেন এয়ার কনসার্ট আর ওই অর্থে হচ্ছে না…

জিয়া :: … না, অই অর্থে হচ্ছে; এটা আমি ডিজঅ্যাগ্রি করতে চাই। ওপেন এয়ার কনসার্ট যদি আগে হতো দুইটা, যে সময়ের কথা বলা হচ্ছে, সেই সময়ে, আগে দুটা হলে তারপরে হতো পাঁচটা, তার পরবর্তীতে হতো দশটা, তার পরবর্তীতে হচ্ছে বিশটা…

রুদ্র :: …আচ্ছা…


ইউ
মিসড,
দ্যাট ডিডেন্ট
মিন, যে, কনসার্ট
বন্ধ হয়ে
গেছে

জিয়া :: …করোনার আগ পর্যন্ত কনসার্ট মোটেও বন্ধ হয় নাই, যেটা ইউজুয়ালি মানুষ ভাবে; যেমন, তুমি যেটা ভাবলা। এটা, ভাবনার কারণটা আমি ব্যাখ্যা করে দিতে পারি। ইউ সুইচড ইউরসেল্ফ, অ্যাকচুয়ালি। প্রফেশনাল কারণে তোমাকে একটা পেশায় জব নিতে হইছে। তখন তুমি কনসার্ট মিস করছ। তোমার ক্যাম্পাসে যে কনসার্টটা হতো, সেটা তুমি দেখতা– যখন তুমি ক্যাম্পাসে ছিলা। ওই ক্যাম্পাসে আবার কনসার্ট হইছে, তুমি তো যাও নাই? ইউ মিসড, দ্যাট ডিডেন্ট মিন, যে, কনসার্ট বন্ধ হয়ে গেছে। কনসার্ট আগের চাইতেও বেড়েছিল। এবং বাড়ছিল, বাড়ছে। বেড়েছিল বলেই মিউজিকটা প্র্যাকটিস করার সুযোগটা ছিল প্রফেশনালি; আদারওয়াইজ করা যাইত না। সো, অইটা নেভার হ্যাপেনড।

শিরোনামহীন। ছবি: শিরোনামহীনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট

কিন্তু সুযোগটা যেমন এই যে অনলাইনে চইলা গেল, গান ফ্রি হলো, সো এটাকে আসলে… এটা খুব ক্ষতিকর। ইন টার্ম অব, যদি এমন হয়, একজন ওয়ান্না বি লার্নার, বিগেইনার, বা সে ভালো, তার পটেনশিয়াল অনেক হাই– সে ক্রিয়েটিভ, কিন্তু সে সচ্ছল পরিবারের না, সে মিউজিক করতেছে, এবং সে যদি মিউজিক করে– তাহলে খুব ভালো করবে, এটা বোঝা যাচ্ছে: তার পটেনশিয়াল ইজ ভেরি হাই, অনেক গভীর; এখন… গান হচ্ছে ফ্রি, কিন্তু গান তৈরি করার ক্ষেত্রে, রেকর্ডিং করার ক্ষেত্রে ভালো ব্যয় হয়, এবং সেটা যদি এই ইউটিউবের মতো প্ল্যাটফর্মে দিতে হয়, তাহলে সেটা ভিডিও সহকারে দিতে হয়, তাহলে তাতে বড় ধরনের অর্থ যোগ হয়। এই মানিটা তার নাই। তাহলে সে কী করবে?

সে কিন্তু মিউজিক করতে পারবে না। তাকে মিউজিক ছেড়ে দিতে হবে। কিন্তু তার পটেনশিয়াল খুব হাই ছিল। তার মানে আমরা খুব ভালো মিউজিশিয়ানকে হারিয়ে ফেললাম– যে হতে পারত; যে হয়তো অনেক ভালো গান আমাদের কন্ট্রিবিউট করত– সেগুলো সব আমরা হারিয়ে ফেললাম। বিকজ, মিউজিক ছিল ফ্রি।


যারা ফ্রি মিউজিক ইনজয়
করতেছে, তাদেরও
আরেকটু
দায়িত্বশীল হইতে হবে

সো, যারা ফ্রি মিউজিক ইনজয় করতেছে, তাদেরও আরেকটু দায়িত্বশীল হইতে হবে এই জায়গাটা থেকে। তাদের নিজের জায়গাটা বুঝতে হবে। কারণ আমরা এটা ফ্রি ইনজয় করতে পারছি, এটা আমাদের জন্য একটা গিফট– এটা ফিল করতে হবে। ইট’স নট এটা যে, আমার কাজ শুধু এটাকে জাজ করা, জাজমেন্টাল হয়ে যাওয়া। এটা গিফট হিসেবে। সো, গিফটটাকে গিফট হিসাবে কনসিডার করতে শিখতে হবে।

রুদ্র :: আমি যে প্রশ্নটা জানতে চাইছিলাম, এই যে দীর্ঘদিন গ্যাপ পড়ে গেল পরের অ্যালবামটা…

জিয়া :: …দুই অ্যালবামের মধ্যে গ্যাপ কেন? দীর্ঘ গ্যাপের অনেকগুলো কারণ ছিল। একটা রিজন হচ্ছে, আমরা কনফিউজ ছিলাম, এর পরবর্তীতে আমরা গান রিলিজ কীভাবে করব? যেমন, আমরা লাস্ট অ্যালবামটা যেভাবে রিলিজ করলাম, সেটাই আর দশজনের তুলনায় অনেক ডিফারেন্ট। কারণ ওইটার একটা কালেক্টর’স এডিশন ছিল। যেটাতে একটা সিডি আছে, কিন্তু সেই সিডিটা কেউ শুনবে না; কারণ সিডিটা প্লে করার প্লেয়ারই খুঁজে পাওয়া যাবে না!


অনলাইন প্ল্যাটফর্মে দেখা গেছে
যে, দস্যু ঢুকেছে–
পাইরেটস

আলটিমেটলি, মিউজিক পরিবেশন করার ভঙ্গিটা ইজ শিফটিং। যেমন ক্যাসেট থেকে সিডি হয়েছে, তার আগে এলপি ছিল, রেকর্ড ছিল, ভিনাইল থেকে ট্রান্সফরমেশন– ডিজিটাল, দেন অনলাইন…। এখন, এই অনলাইন প্ল্যাটফর্মে দেখা গেছে যে, দস্যু ঢুকেছে– পাইরেটস– যারা পাইরেসি করে বেড়ায়, যারা হচ্ছে বিভিন্ন সাইটের নাম দিয়ে, শিল্পী-টিল্পি সব নাম মুছে দিয়ে, ক্রিয়েটরের নাম মুছে দিয়ে নিজেদের সাইটের নাম দিয়ে একটা গান আপ করে। তো, অ্যাকচুয়ালি দে ওয়্যার পাইরেটস। তারা সেখান থেকে আর্নিংও করছিল। এই জায়গায় তো আমরা গান রিলিজ করতে পারি না। তাহলে গানটা রিলিজ কীভাবে করব?

আমাদের নিজেদের ওয়েবসাইটে করতে পারি। সো, উই ওয়্যার অ্যাকচুয়ালি কনফিউজড, কাইন্ডা লাইক কনফিউজড, যে, ওকে দেখি, ওয়ার্ল্ডে অন্যান্যরা কীভাবে করতেছে? সিস্টেম অব অ্যা ডাউন কীভাবে করছে? অডিওস্লেভ কীভাবে করছে? দেখি।

দেখতে দেখতে, দেখতে দেখতে আমাদের ভেতর লিগ্যাল প্ল্যাটফর্মগুলা আসলো। ইউটিউব লিগ্যাল প্ল্যাটফর্ম। এখন যেমন স্পোটিফাই আমাদের অ্যাসেট। কিন্তু ওই অর্থে এখনো আসে নাই, কিন্তু আসবে। মাত্র মোটামুটি আসার মতো একটা পর্যায়ে এসেছে। সো, এই যে ডিস্ট্রিবিউশনটা এভাবে হতে পারে, এটা কিন্তু আমাদের এখন জাস্ট বিগেইন ফর অ্যা ফিউ কাপল অব ইয়ারস।

‘ইমাজিন রেডিও’ আসলো, গান অ্যাপ আসলো; মানে একটা অ্যাপ ইনস্টল করলেই একটা বিশাল জুকবক্সের মতো কালেকশন পাওয়া যায় মিউজিকসহ… মানে, শুধুমাত্র মিউজিক লিসেনিংয়ের জন্যই এইসব প্ল্যাটফর্মগুলো তৈরি করা হয়েছে, আমাদের দেশি প্ল্যাটফর্ম। হয়তো দেশের বাইরে থেকে পরিচালিত হয়। কোনোটা আমেরিকা থেকে, কোনোটা অস্ট্রেলিয়া থেকে; বাট দেশি প্ল্যাটফর্ম। তো, আমরা ওই জায়গাগুলোতে আসলে নিজেদের অভ্যস্ত করতে শুরু করলাম।

আরেকটা প্ল্যাটফর্ম হলো, যেটা টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানিগুলা আনলো, সেটাতে দেখা গেল যে– লাইক জিপি মিউজিক, লাইক রবির আছে, বাংলালিংকের আছে… সবারই আছে; এই প্ল্যাটফর্মগুলোতে গান রিলিজ করা যেতে পারে, এটা মানুষ পয়সা দিয়ে শুনবে, পয়সা দিয়েই শুনে। এবং সেটার যে রয়্যালিটি, সেটা শিল্পীকে পে করারও একটা ব্যবস্থা তৈরি হয়েছে– যদিও খুব দুর্বল একটা ব্যবস্থা তারা করেছে। সেটাতে দেখা যায় যে, প্রায় এইটি-নাইনটি পার্সেন্ট তারা নিজেরা রেখে দেয়… হা-হা-হা… তারপরে শিল্পীকে কোনো রকম একটা ভিক্ষার থালা ধরিয়ে দেওয়ার মতোই একটা পেমেন্ট…। বা পদ্ধতিটা তাদের নিজেদের সুবিধামতো সাজিয়ে নিয়ে… মানে, হোয়াটেভার, দ্যাট ইজ পদ্ধতি– অ্যাট লিস্ট। বলতে পারব না যে, না, তারা পাইরেট।

সো, আমরা আসলে ডিসাইড করছি, আমরা আসলে কোন দিকটায় যাব। অ্যাভিনিউ খুলছে, কোন অ্যাভিনিউটা আসলে সবার জন্য গ্রহণযোগ্য হবে; বিকজ, লিসেনারের কাছে গানটা পৌঁছাক। পৌঁছানোর রাস্তাটা কোনটা হবে; যাতে লিসেনাররা না বলে, ‘হ্যাঁ? তাই নাকি? আমি তো জানিই না রিলিজ হয়েছে!’ এটা যাতে না বলতে হয়, ওই রাস্তাটা কোনটা হতে পারে? সো ফার, ইউটিউব এখন পর্যন্ত ভালো কমফোর্টেবল আমাদের জন্য।

অন্যান্যগুলোও কমফোর্টেবল। যেমন, এইখানে [আঙুল দিয়ে শোকেসে দেখিয়ে বলেন–] ‘ইমাজিন রেডিও’র ছোট্ট একটা পদক আছে, ‘মোস্ট লিসেনিং সং’ অ্যাওয়ার্ডটা আমরা পেয়েছি। শিরোনামহীন-এর এই অবেলায় সবচাইতে বেশি লিসেনিং হয়েছে। এরাও আমাদের রেসপেক্টটা দিয়েছে। সম্মানটা। এই জায়গাগুলা এ জন্যেই আমাদের কাছে মনে হয়েছে যে, ওকে ফাইন, এই অ্যাভিনিউগুলোতে আমরা হাঁটতে পারি। এইটা একটা রিজন।


খুব বেশি অর্থের প্রতি এক
ধরনের মোহ,
আকাঙ্ক্ষা
ব্যান্ডে
বেড়ে
গিয়েছিল,
যেটা আমাদের
ক্ষতি করেছে কাজের পক্ষে

আরেকটা রিজন ছিল যে, একটা টাইমে, জাস্ট বিফোর টু থাউজেন্ড সেভেনটিন– যখন আমরা নতুন করে আসলাম, তার আগ পর্যন্ত বেশ কাপল অব ইয়ারস আমাদের ব্যান্ডে কাজ করার পরিবেশটা বিপন্ন হয়ে ছিল। পরিবেশ ছিল না। আগ্রহ পাওয়া যাচ্ছিল না। আগ্রহ ছাড়া কোনো ক্রিয়েটিভ কাজ হয় না। ডেসপারেশন থাকতে হবে, ডেডিকেশন থাকতে হবে; ডেডিকেশনটার অভাব দেখা যাচ্ছিল। খুব বেশি অর্থের প্রতি এক ধরনের মোহ, আকাঙ্ক্ষা ব্যান্ডে বেড়ে গিয়েছিল, যেটা আমাদের ক্ষতি করেছে কাজের পক্ষে। এটা তো ক্রিয়েটিভ কাজ।

আমার কাছে সবসময় মনে হয়েছে যে, আমি যখন একটা কনসার্টে যাচ্ছি, কনসার্টে গিয়া… আমাদের গিটারিস্ট দিয়াতেরও একই, সেইম বক্তব্য ছিল যে… ঘড়ি দেখছি, কখন আসলে আমি চলে যাব, তখন আমার মিউজিকটা ছেড়ে দেওয়া উচিত। এটা একটা ম্যাটার। হয় আমার বয়স হয়ে গেছে, বা, আই ল্যাকিং স্ট্রেন্থ বা স্টেমিনা; অথবা, আমার মিউজিকের প্রতি ভালোবাসা নাই। অর্থ চাহিদা আছে, কিন্তু ভালোবাসাটা প্রকৃত অর্থে নাই। এটা প্রথম কথা।

সেকেন্ডলি হচ্ছে যে, (এটা) ক্রিয়েটিভ কাজ: আমি গানটা তৈরি করব, এরপর সেই গানটা মানুষকে শোনাব, ডেলিভার করব। তৈরি করে নিজে নিজে শুনব, তা না; সবাইকে শোনাব। এটা আমার দায়িত্ব। ফর এক্সাম্পল, কারণ এটা তো রিসিভ করে মানুষ; হ্যাঁ? ওইটা যদি আমার শোনানোর আগ্রহ না থাকে, বা রিসিভ করার আগ্রহ না থাকে, বা ক্রিয়েটিভ কাজ করলাম… ক্রিয়েটিভ বলতে হচ্ছে যে, গানটা তৈরি করা, এইটাই ক্রিয়েটিভিটি… (গান ডেলিভারি দেওয়াটা) এটা তো ক্রিয়েটিভিটি না, এইটা হচ্ছে প্রেজেন্টেশন… ক্রিয়েটিভ অংশটা হচ্ছে, গানটা তৈরি করা। সো, এটা লিখলাম, এটা সুর করলাম, এটা সবাইকে শোনালাম, দেখা গেল, বডিল্যাঙ্গুয়েজ নাই। না, এটাকে সবাই ভ্যালু করছে না। এটা যে রেকর্ডিং করতে হবে, সেই তাড়নাটাও অনুভব করছি না।

যদি আমি কষ্ট করে একা একা করি, তখন সবাই আসবে, ছবি-টবি তুলবে, এছাড়া আর বাকি অংশটার প্রতি আগ্রহ নাই। তখন কিন্তু কাজ করা যায় না। সো, অই জায়গাগুলোতে আসলে আমাদেরকে অনেকটা সাফার করতে হয়েছে। যে কারণে দীর্ঘ সময় আমরা গান দিতে পারি নাই; একটা লম্বা গ্যাপ।

তারপর অ্যাগেইন, যখন আমাদের লাইনআপটা চেঞ্জ হলো, এই প্রবলেমটা কাটল, আমরা কিন্তু গান রেকর্ড করা শুরু করলাম, এবং সেটা ডেসপারেটলি। তার মানে হচ্ছে যে, আমাদের এই তীব্র আকাঙ্ক্ষাটা, গান ডেলিভার করার তীব্র আকাঙ্ক্ষাটা আসলে আমাদের মাঝে ছিল…

রুদ্র :: …ওইটা আটকে ছিল…

জিয়া :: …ওটা আটকে ছিল। তখন রিলিজ করতে পেরে আমরাও, ওই ওয়্যার ফিলিং হ্যাপি। আমরা তখন [এতদিন] প্রচণ্ড মনোকষ্টে ছিলাম। আমরা কষ্টে ছিলাম। আমাদেরকে প্রচুর মানুষ ভুল বুঝেছে।

আমাদের দেশটা আসলে শুধুমাত্র যে গান গায়, তাকে ছাড়া অন্য কাউকে ভ্যালু করতে শিখে নাই। গান যে ক্রিয়েট করতে হবে, সে বিষয়টা প্রপারলি মানুষ বোঝে না। ক্রিয়েট করার পরে কেউ না কেউ সেটা পারফর্ম করে। এই বাস্তবতাগুলো মানুষের মাথায় আসলে… এখন পর্যন্ত এই শিক্ষার অভাব আছে; আমাদের লিসেনারদের, সো ফার। দ্যাট’স হোয়াই আমাদের শিরোনামহীনকে বিগ টাইম সাফার করতে হয়েছে।

তারপর আসলে যারা এখানে কর্মী, যারা জেনুইনই এই কাজগুলা মানুষকে দিয়েছে, সে তার নিজের কাজের জন্য মানুষের কাছ থেকে কাজ নিচ্ছে– এ রকম একটা অবস্থা ছিল।

মনোকষ্টে ছিলাম। আমরা কষ্ট পেয়েছি। কিন্তু আমরা কাজটা করতে পারছি– যেই কাজটা ইনজয় করি। সেটা ছিল আমাদের ভালোলাগার জায়গা, এবং আমরা ডেসপারেটলি কাজ করেছি। দ্যাটস ওয়ে উই ক্যুড রিলিজ সংস।

আমাদের আর একটি গান ডেলিভার করার বাকি আছে। এটার নাম পারফিউম। এই গানটা মিক্সড এবং মাস্টার করা হয়েছে– শুনলে এখন হেসে দিবা– আড়াই বছর আগে। এবং সেটার ভিডিও করার জন্য স্ক্রিপ্ট আমি চারবার লিখেছি, চেঞ্জ করেছি, এই করেছি, সেই করেছি… অনেক কিছু করেছি। এটার জন্য হলিউড পর্যন্ত দৌড়িয়েছি, যে, ভালো ভিডিও বানাব: এমন একটা ভিডিও, যে ভিডিওটা আসলে স্ট্যান্ডার্ড। আই মিন, সবাই তখন বুঝবে যে, ওকে, ঠিক আছে, ভিডিও এইভাবে বানাইতে হয়।


উই
ওয়ান্টেড টু
সেট অ্যান এক্সাম্পল

আমরা… উই ওয়ান্টেড টু সেট অ্যান এক্সাম্পল। অই লেভেলে একটা ভিডিও বানাইতে চাইছিলাম। সো, অইটার জন্য আমরা ডেসপারেট ছিলাম। এবং আমাদের ভাগ্যটা আসলে এতটাই খারাপ, যে, আমরা… কাজ করার ক্ষেত্রে তো মানুষ আসলে স্ট্রাগল করে, বারবার ঠেকে– সেইটা ঠিক আছে, সেইটা সবার ক্ষেত্রেই ঘটে; কিন্তু আমাদের এতটাই খারাপ, যে, আমরা জাস্ট করোনার জন্য ওই কাজটা করতে পারলাম না।

এটা… হলিউডে যে টিম কাজ করতেছিল, (করোনাভাইরাসের কারণে) তারাও যার যার ঘরে ফিরে গেল; ওইটা তো মাল্টি ন্যাশনাল টিম: ইন্ডিয়ান ছিল, চায়নিজ ছিল, রাশিয়ান ছিল। মূলত যে ভিএফএক্স করছিল, ওই ছেলেটা ছিল রাশিয়ান। ও এক্স-মেন ডেজ অব ফিউচার পাস্ট-এ কাজ করেছে। যার যার দেশে তারা চলে যেতে বাধ্য হয়। সো, ইট’স ব্রোকেন।

দেন অ্যাগেইন, এত লম্বা ব্রেকের পরে আসলে ওভাবে আর কাজ হয় না। সো, আমরা ডেসপারেট, যে, এই ভিডিও আমরা অন্য কোনভাবে বানাব; দুয়েকদিনের মধ্যে আমি একটা গুড নিউজও দিতে পারব, আশা করতেছি। কারণ এটা তো খুব এক্সপেনসিভ, এই টাকাটা আমাদের নাই। যে কারণে আমরা বানাইতে পারতেছি না।

আমরা তো মোস্টলি আমাদের লিসেনারদেরকে ওভাবে জানাতেও পারি নাই যে, আমাদের টাকা নাই, এজন্য বানাইতে পারতেছি না। হয়তো ওরা অনেকেই হেল্প করার জন্য এগিয়েও আসত। কিন্তু আমরা তো সেটা পারি না। তো, আমরা করপোরেট কোম্পানিগুলার সাহায্য চাইলাম, ইউজুয়ালি।

সেটাই চেয়েছি এবং সেটা… এখন মিউজিককে ভ্যালু করার বা প্যাট্রোনাইজ করার সংখ্যাটাও অনেক কমে গেছে। অনেক কম। মানে, এটা না কেউ করতে চায় না! কারণ, গান তো ফ্রি। ফ্রি বলেই করতে চায় না। ফ্রি জায়গাটায় সাধারণত কেউ খরচ করতে চায় না। ক্রিকেট খেলা হোক, সেখানে করবে; কারণ ওখানে কিন্তু একটা টিকেট বিক্রি হয়। মানুষ টিকেট কেটে সেটা দেখতে যায়। এবং সেখানে অর্থ আছে। তারা পেইড করে প্রপার প্লেয়ারকে। আমাদের জায়গাটা এমন হয়ে গেছে যে, আমরা ক্রিয়েটিভ, কিন্তু আমরা ক্রিয়েশনটা চর্চা করার সুযোগ পাচ্ছি না। এর চাইতে আনফরচুনেট আর কী হইতে পারে?…


আমরা
টাইটেল
সংটাকে জমিয়ে
রাখছি একদম লাস্টে
রিলিজের
জন্য

সো, ওইটা যদি হয়ে যায়, উই ক্যান ডিক্লেয়ার, যে, পারফিউম এই যে রিলিজ হচ্ছে– অ্যালবাম টাইটেল-সং, এই অ্যালবামটার নাম পারফিউম; সো, আমরা টাইটেল সংটাকে জমিয়ে রাখছি একদম লাস্টে রিলিজের জন্য। যাতে অন্তত মানুষ শোনে; ডেসপারেশন হারিয়ে না যায়। বা, ওভাবে কমপেয়ার যাতে না করে: “না, ‘এটা’ ভালো, ‘ওটা’ ভালো…”।

আবার হাসিমুখ । অফিসিয়াল অডিও

এটা আমরা খুব সাফার করছি। কারণ, আবার হাসিমুখ পর্যন্ত সাফার করছি। ওই অ্যালবামের প্রতিটা গান ভালো। কিন্তু আবার হাসিমুখ রিলিজ হওয়ার পরে সবাই লিখছে যে, “আরে, হাসিমুখ-এর মতো তো আর না!” মানে, এই যে কমপেয়ারটা শুরু হয়ে গেল… হ্যাঁ, হাসিমুখ ইজ অ্যা ভেরি গুড সং; ওটাও আমার তৈরি করা, আরেকটাও আমারই তৈরি করা। সব গান সবার এক রকম হবে না। কিন্তু ওইটা তো খারাপ ছিল না।

তো, অই জায়গাটা থেকে আমরা আসলে বের হইতে চাইছিলাম। যে কারণে পারফিউম আমাদের লাস্ট রিলিজ। এটা হলে উই ক্যান ডিক্লেয়ার যে, এটা আমাদের সিক্সথ অ্যালবাম; এবং ওটারই একটা কম্পাইলেশন।…

[‘এই মোমেন্টে আমি তোমাকে এটা দিতে চাই। আমার মনে হয় যে এটা তোমার আছে…’– এই বলে উঠে গিয়ে শিরোনামহীন শিরোনামহীন-এর অ্যালবামের এক কপি ‘কালেক্টরস এডিশন’ এনে দিলেন। আর, অ্যালবাম ডিজাইন নিয়ে আলাপ শুরু করলেন]…

এটা ছিল আমাদের লাস্ট অ্যালবাম। এটা কালেক্টর’স এডিশন। সো আমরা চেষ্টাটা করেছিলাম… এটা একটা আমি বানাইছিলাম, ডেমো আছে আমার কাছে। প্রিন্টআউট দিয়ে নিজের হাতে কেটে কেটে বানাইছি। এটাই আমি বানাব– এটা ছিল টার্গেট, এবং ওভাবেই কাজটা করেছিলাম।

এইটা [সিডি] কিন্তু কেউ শুনবে না। (সঙ্গে থাকা) এইটা হলো একটা বুক, যে বুকটা একটা মেমোরি। যে বুকটাতে আমাদের কিন্তু ইভেন কর্ড-টর্ডও লেখা ছিল। কেউ যদি গানটা করতে চায়, করতে পারবে। সে ব্যবস্থা করে দেওয়া আছে। খুব সুন্দরভাবে করা আছে। এবং ব্যাকগ্রাউন্ডে একটা স্টোরি লেখা আছে।

শিরোনামহীন শিরোনামহীন । অ্যালবাম কাভার

সো, আমাদের সিক্সথ অ্যালবামটা আমরা এ রকম একটা ‘কালেক্টরস এডিশন’ করব, যেটার হয়তো একটা লেদার কাভার হবে। একটু এক্সপেনসিভ হবে– খুব স্বাভাবিক। ৫০ টাকা-৬০ টাকা লেভেলে থাকবে না। কারণ, লেদার কাভার-টাভার দিয়ে যদি একটা ডায়েরির মতো করা হয়, ব্যয়টা চার-পাঁচ’শ টাকা লেভেলের হবে। ওই প্রাইসেই সেটা বিক্রি হবে।

বিক্রি হবে এইজন্য, যে, এটা হয়তো আমরা সবাইকে গিফট করে দিতে পারতাম বা করতাম; কিন্তু তাতে তো সেটা আমাদের ম্যাস ফ্যানবেজ পাবে না এবং সে তো সেটা কালেক্ট করতে চায়, মে বি। যদি কালেক্ট করতে চায়, তাহলে সে সেটা কীভাবে পাবে? এটার একটা ওয়ে থাকতে হবে। এটা যদি আমি ফ্রি করি, তাহলে বাঙালি তো আসলে ফ্রি পেলে গু-ও নিতে চায়! তাকে তো আমি দিতে পারব না। তার মানে আমার তখন ইয়েটা… মানে, উদ্দেশ্যটা পূরণ হবে না। যার কাছে আসলে যাওয়া উচিত ছিল, সে না পেয়ে অন্য একজন পেয়ে যেতে পারে। সেটা আমি চাই না। আমি চাই যে, যার পাওয়া উচিত, সে-ই পাক।

সো, এইটার একটা মূল্য থাকবে; সে সেই মূল্য পে করবে; ওই মূল্য নির্ধারণ করে কোনো একটা জায়গায় এটা থাকবে, সেটা সে ডেলিভারি পেয়ে যাবে। এখন অনলাইনে শপিং বা ই-কমার্স সবার কাছেই পরিচিত বিষয়। সো, এটা খুব স্ট্রাগলিং কিছু হবে না। বাট আমরা একটা কম্পাইলেশন, কালেক্টর’স এডিশন দেবো।

রুদ্র :: ‘ব্যান্ড লিডার’ টার্ম আপনি অপছন্দ করেন কি না, জানি না; করলেও, শিরোনামহীন-এর ব্যান্ড লিডার হিসেবে আপনাকে আমরা জানি বা শ্রোতা জানে। আমরা দেখছি কি, আমাদের এইখানে এখনো… ওইটা ওয়েস্ট হয়তো বহুকাল আগে কাটায়া ফেলছে, তারপরেও এখনো স্ট্রাগল করে… সেটা হচ্ছে যে, একটা লাইনআপ যখন এক ধরনের গ্রহণযোগ্যতা বা পপুলারিটি পায়, তখন বেসিক্যালি গানটা ধরে তার– শেষ পর্যন্ত যে ডেলিভারি দিচ্ছে– ফ্রন্টম্যান বা ভোকাল। ভোকাল চেঞ্জ হইলে… এইটা খুব কমন ব্যাপার, ভোকাল চেঞ্জ হইতেই পারে, যেকোনো মেম্বারই চেঞ্জ হইতে পারে… হরদম হয়… এইটা সহজে নিতে চায় না এক ধরনের শ্রোতা। যেমন, এইটা ধরেন ওয়ারফেজ-এর ক্ষেত্রে বারবার ঘটছে, এবি মারা যাওয়ার পর এলআরবিতে একটা ম্যাসাকার ব্যাপার ঘটছে, শিরোনামহীন-এও এক ধরনের একটা… ওই যে তুলনা চলে আসে– হাসিমুখ আর আবার হাসিমুখ এক কি না…

শিরোনামহীন। ছবি: শিরোনামহীনের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ

জিয়া :: …হ্যাঁ, তুলনা চইলা আসে… সেটাই। এইটা আসলে মানুষের ইনস্টিক্ট। এটাকে রিসিভ করতে চায় না। কাউকে তো জোর করে কোনো কিছু রিসিভ করানো যাবে না। যে রিসিভ করবে, সে আসলে আমাদের সুরগুলাকে ইনজয় করতে চাইবে। যে রিসিভ করতে চাইবে না, সেই আমাদের সুরগুলাকে রিজেক্ট করবে সরাসরি। সে এগুলা ইনজয় করা থেকে নিজেকে আসলে সরিয়ে নেবে। এটাই হবে। এটাই হেপেনস।


এন্ড
অব দ্য
ডে, কিছুই
থাকে না; থাকে হচ্ছে গান

গান তো আসলে ক্রিয়েশন নির্ভর একটা বিষয়। যেকোনোই আর্টই তা। সো, ক্রিয়েশনটা মূলত যার কাছ থেকে আসবে বা যেখান থেকে যেভাবে আসবে, সেখানেই কাজ হবে। বাকি জায়গায় কাজ হবে না। এন্ড অব দ্য ডে, কিছুই থাকে না; থাকে হচ্ছে গান। সো, আমার যেটা প্রিয় গান, সেটা আমি আসলে শুনবই। এটাই স্বাভাবিক।

এবং, সেই গানটা যদি ক্রিয়েট না হতো, বা আমি রিজেক্ট করতাম আনফরচুনেটলি, তাহলে সেই গানটা আমার শোনা হতো না। সো, এইটা হচ্ছে বাস্তবতা। আমি সবসময় বলি যে, গানটা ভ্যালু করা হোক। আমাকে ভ্যালু করার দরকার নাই। বা, অন্য কাউকেও ভ্যালু করার দরকার নাই। কিন্তু গানটাকে ভ্যালু করলে আই উইল বি ভেরি হ্যাপি, কারণ, ওইটা আমার চাইল্ড।

যে গানগুলো আমি ক্রিয়েট করছি, ওইটা আমার চাইল্ড। যে গানটা আরেকজন ক্রিয়েট করছে… যেমন শাফিন গান ক্রিয়েট করেছে– এই অবেলায় সুর করেছে, ওর একটা ক্রিয়েশন এটা– ওর চাইল্ড; আমারও চাইল্ড, কারণ, আমি লিখেছি।

সো, এই যে জায়গাটা, এই জায়গাটাকে আমরা আসলে আমাদের মনের অনেক গভীরে লালন করি, অনেক ডেপথে– যে ডেপথটা পর্যন্ত পৌঁছানোর ক্যাপাসিটি সবার থাকে না; কিন্তু আমি এইটাও বিশ্বাস করি যে, কিছু মানুষের সেটা থাকে। কিছু মানুষ আসলে তার লাইফের সাথেই গানটা এমনভাবে মিলিয়ে ফেলতে পারে, বা গানটা তারে এমনভাবে টাচ করেছে– সে সেখান থেকে স্লিপ করতে পারবে না।

সো, ওই জায়গাটাতে আসলে অন্য কারও কিছু করার থাকে না। বা, অন্য কেউ তাকে ইনফ্লুয়েন্স করে সরাইতে পারে না। সো, এটা তো আমাদের থেকেই যাবে, এটা তো কেউ কেড়ে নিতে পারবে না। কেড়ে নেওয়ার তো চেষ্টা করা হয়ই!


পরের কিস্তি, আসছে...
Print Friendly, PDF & Email