সেপুলতুরার ‘ক্যাওয়াজ এ.ডি.’ যেভাবে নব্বইয়ের দশকের মেটালের খেলা পাল্টে দিয়েছিল

0
27

লিখেছেন: ম্যালকম ডোম
অনুবাদ: রুদ্র আরিফ

ক্যাওয়াজ এ.ডি.
[Chaos A.D.]
ব্যান্ড: সেপুলতুরা
ট্র্যাক: রিফিউজ/রিজিস্ট; টেরিটরি; স্লেভ নিউ ওয়ার্ল্ড; আমেন; কাইওয়াস; প্রোপাগান্ডা; বায়োটেক ইজ গডজিলা; নোম্যাড; উই হু আর নট অ্যাজ আদারস; ম্যানিফেস্ট; দ্য হান্ট; ক্লেঞ্চড ফিস্ট
ভোকাল, রিদম, গিটার: ম্যাক্স কাভালেরা
ড্রামস, পারকাশন: ইগর কাভালেরা
বেজ, ফ্লোর টম: পাওলো জুনিয়র
লিড গিটার: আন্দ্রেয়াস কিসার
জনরা: গ্রুভ মেটাল; থ্র্যাশ মেটাল
লেন্থ: ৪৭:০৪ মিনিট
লেবেল: রোডরানার; এপিক
রিলিজ: সেপ্টেম্বর ১৯৯৩


ইতিহাসে কিছু মুহূর্ত আসে, যেগুলো কোনো কোনো ব্যান্ডকে চিহ্নিত করে দেয়; আর আসে কিছু অ্যালবাম, যেগুলো মুহূর্তগুলোকেই শনাক্ত করে দেয়। ১৯৯৩ সালে, ইতোমধ্যেই মেটাল দৃশ্যপটে মেজর প্লেয়ার হয়ে ওঠার কাল্ট স্ট্যাটাস এক লাফিয়ে ছাড়িয়ে যেতে সেপুলতুরা প্রস্তুত, ইচ্ছুক ও নিশ্চিতভাবেই সক্ষম হয়ে উঠেছিল।

ক্যাওয়াজ এ.ডি. গড়ে তোলার ব্যাপারটি ছিল স্থির। ১৯৮৯ সালে বিনিথ দ্য রিমেইনস অ্যালবামের মাধ্যমে ব্রাজিলে নিজেদের আবির্ভাব প্রবল দাপটের সঙ্গে জানান দেয় সেপুলতুরা। তাদের এই তৃতীয় অ্যালবামটি আন্তর্জাতিকভাবে এ ব্যান্ডের খ্যাতি পাওয়ার চিহ্ন হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে। সে বছর যুক্তরাজ্যে অভিষেক লাইভ করে সেপুলতুরা— লন্ডানের দ্য মার্কি ক্লাবে, সডোম-এর সাপোর্টিং হিসেবে; এবং ১৯৯১ সালে অ্যারাইজ অ্যালবামের মাধ্যমে ব্যান্ডটি আরেক ধাপ এগিয়ে যায়।

‘এই প্রথম আমরা ব্রাজিলের বাইরে (গানের) রেকর্ডিং করেছিলাম,’ স্মৃতিচারণায় জানান গিটারিস্ট আন্দ্রেয়াস কিসার। ‘আমরা (যুক্তরাষ্ট্রের) ফ্লোরিডায় গিয়ে প্রডিউসার স্কট বার্নসের সঙ্গে কাজ করেছিলাম। এ ছিল একটি সত্যিকার শিক্ষামূলক অভিজ্ঞতা; তবে মিক্সটি নিয়ে আমরা মোটেও খুশি ছিলাম না। তাই এটিকে রিমিক্স করার জন্য অ্যান্ডি ওয়ালেসের কাছে ধর্ণা দিয়েছিলাম। তিনি কেমন কাজ করেন, তা বোঝার জন্য তাকে আমরা প্রথমে একটা ট্র্যাক দিয়েছিলাম; তার কাজ থেকে এতটাই মুগ্ধ হয়ে গিয়েছিলাম, পরে পুরো অ্যালবামের দায়িত্বই তাকে দিই।’

এটি সেপালতুরার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি সিদ্ধান্ত হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে; কেননা, অ্যারাইজ এই ব্যান্ডকে দ্রুতগতিতে কাল্ট মর্যাদায় আসীন হয়ে নিজ জায়গা পাকাপোক্ত করে দিয়েছে, এবং এরপর পরবর্তী অ্যালবামটি তাদের নিশ্চিতভাবেই এমন কিছু একটা করার ছিল। কেননা, তারা যদি থ্র্যাশারের নতুন শাবকের অবস্থান পেরিয়ে আরও সামনে এগিয়ে যেতে চায়, তাহলে সেই অ্যালবামের একটি মহাগুরুত্বপূর্ণ দীর্ঘস্থায়ী পদক্ষেপ নেওয়ার ছিল। আর, প্রডিউসার বেছে নেওয়াটাও ছিল একটি কী-ফ্যাক্টর।

সেপুলতুরা
সেপুলতুরা। ২৭ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৪। ছবি: পল ন্যাটকিন/গেটি ইমেজ

‘আমাদের মনে হলো, অ্যান্ডিই সঠিক লোক,’ বলেন ব্যান্ডটির তৎকালীন গিটারিস্ট ও ভোকালিস্ট ম্যাক্স কাভালেরা (বাকি লাইনআপে ছিলেন বেজিস্ট পাওলো জুনিয়র ও ড্রামার ইগর কাভালেরা)। অ্যালিস ইন চেইনস থেকে শুরু করে রান ডিএমসি স্লেয়ার ব্যান্ডের জন্য করা ‘তার আগের কাজগুলোর ভক্ত ছিলাম আমরা; এই প্রজেক্টের জন্য তাকেই যথাযোগ্য মনে হলো। এ ব্যাপারে সবাই একমতে পৌঁছলাম– আমরা, লেবেলে কোম্পানি [রোডরানার] ও ম্যানেজমেন্ট [গ্লোরিয়া বুজনোস্কি– যাকে পরবর্তীকালে বিয়ে করেন ম্যাক্স]। আমরা জানতাম, অ্যালবামটি সেপুলতুরার জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ হতে যাচ্ছে; তাই এটার সব কাজই একেবারেই ঠিকঠাকমতো হওয়া চাই।’

রেকর্ডিং সেশনগুলোর জন্য সাউথ ওয়েলসের রকফিল্ড স্টুডিওতে ব্যান্ডটির স্থানান্তরণ ঘটানো উচিত– এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া ওয়ালেস সাপুলতুরাকে একটি বৃহত্তর আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট এনে দিয়েছিলেন; অন্যদিকে, ব্যান্ডের নতুন মনোভাবের সঙ্গে বেশ ভালোভাবে খাপ খাইয়ে নিতে পেরেছেন বলে অনুভব করেছেন কিসার।


আমরা যেন এক লাফে
বালক থেকে লোক
হয়ে ওঠলাম

‘আপনাকে বুঝতে হবে, অ্যারাইজ-এর ট্যুরে দুই বছর কাটিয়েছি আমরা। এই প্রথমবার আমরা দুনিয়া দেখেছি; আসলে ব্রাজিলিয়ান হিসেবে দেশের বাইরে পৃথিবীটা কেমন– তা বিশ্লেষণ ও উপলব্ধি করতে পেরেছি। ব্রাজিলকে আমরা একটি ভিন্ন অ্যাঙ্গেল থেকে দেখতে পেরেছি, আর তা আমাদের অনুভূতিতে এক ধরনের পরিবর্তন এনে দেয়। এমনকি অ্যারাইজ-এর বেলায়ও আমরা এমনসব লিরিক লিখছিলাম, যেগুলো ভীষণ হেভি মেটাল এবং ভীষণ ফ্যান্টাসি নির্ভর। তবে এ বেলা আমরা আরও বেশি সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয়আশয়ে মনোযোগ দিতে শুরু করলাম। আমাদের দেশে যা চলছে– দারিদ্র, দমনপীড়ন– এসব নিয়ে লিখতে শুরু করলাম; কেননা, এগুলো আমাদের ওপর একটা প্রভাব ফেলেই। মিউজিকের দিক থেকেও আমাদের উন্নতি ঘটল। কোনটা কাজে লাগে আর কোনটা লাগে না– অনেক বেশি লাইভ করা এবং অজির [অজি অসবর্ন] মতো লোকেদের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার ফলে আমরা সেটা শিখতে পারলাম। আমরা যেন এক লাফে বালক থেকে লোক হয়ে ওঠলাম!’

‘অ্যান্ডি আমাদের প্রচুর সাহায্য করেছেন। একসঙ্গে কাজ করার কালে তার কাছ থেকে প্রচুর শিখেছি; সেটি শুধু স্টুডিও এক্সপেরিয়েন্সের বেলায়ই নয়, কেননা, কী রকম গান আমাদের লেখা উচিত– তা নিয়ে নতুন করে ভাবতেও তিনি আমাদের উৎসাহ জুগিয়েছেন।’

ক্যাওয়াজ এ.ডি.র গানগুলো নিয়ে তিন-চার মাস ধরে কাজ করেছে সেপুলতুরা; পুরো ব্যান্ড তখন আবাস গড়েছিল অ্যারিজোনার ফিনিক্সে। তারা জানত, এটি তাদের তখন পর্যন্ত সবচেয়ে চেলেঞ্জিং ও গুরুত্বপূর্ণ অ্যালবাম হতে যাচ্ছে; এবং বিশ্বাস করত, এটির প্রতি তাদের সর্বোচ্চ মনোযোগ দেওয়া দরকার।


‘এই প্রজেক্টে নিজেদের
সত্যিকার অর্থেই
নিংড়ে দেওয়ার
বিকল্প ছিল না
আমাদের’

‘একদল লোক হিসেবে আমরা ফিনিক্সে চলে গেলাম,’ বলেন কিসার। ‘এমনকি আমাদের পরিবারও আমাদের সঙ্গে চলে এলো। এই প্রজেক্টে নিজেদের সত্যিকার অর্থেই নিংড়ে দেওয়ার বিকল্প ছিল না আমাদের; আর এ কাজে প্রয়োজন ছিল চারপাশের সবার ও সবকিছুর সাহায্যের।’

এই লেখন প্রক্রিয়ায় ব্যান্ডটির ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী কিছু অনুষঙ্গের আবির্ভাব ঘটল– প্রবল আঘাতকারী, দাপুটে, চ্যালেঞ্জিং ও সংঘাতমূলক। এটি ছিল সেপুলতুরার একটি নতুন পর্যায়। তারা যখন রকফিল্ডে গিয়েছিল, তারা স্রেফ প্রস্তুত ছিল না; তারা এমন এক পন্থায় ফোকাস ও ভাইব তৈরি করেছিল– যা এর আগে কোনোদিনই ঘটেনি।

অবধারিতরূপে, ম্যাক্স কাভালেরাকেই মনে হয়েছিল ব্যান্ডটির কর্মপ্রেরণামূলক স্তম্ভ; নিয়ম ভাঙার আইডিয়ায় ভরা ছিলেন তিনি; আর সেগুলোর পেছনে লেগে থাকার দূরদর্শিতা ছিল তার। যেমন ধরুন, একটি দুর্গের ভেতর রেকর্ডিং করার প্রবৃত্তি ছিল সেখানে!

সেপুলতুরা, চেপস্টো ক্যাসেলে

‘সেটি ছিল চেপস্টো ক্যাসেল [ওয়েলস],’ বলেন এই ফ্রন্টম্যান। ‘রকফিল্ডে যাওয়ার পথে আমরা ওখানে গাড়ি থামিয়েছিলাম; আর আমার তখনই মনে হলো, কাইওয়াস গানটির পারকারসন রেকর্ডিংয়ের জন্য এই পরিবেশ ও জায়গাটির অ্যাকুয়েস্টিক দারুণ হবে। কাজটা কীভাবে করা সম্ভব, কোনো ধারণা ছিল না; তবু অ্যান্ডি ওয়ালেসকে নিজের আইডিয়া জানালাম। এরপর সব ধরনের টেকনিক্যালিটি নিয়ে কাজের রাস্তা বের করার দায়িত্ব ছেড়ে দিলাম তার কাঁধে এবং তিনি তা করে দেখালেন! গানটির সাউন্ড দারুণ। আমার ধারণা, এই দুর্গে যারা কাজ করতেন, একটা রক ব্যান্ড এখানে গানের রেকর্ড করতে চায়– এ কথা জেনে তারা খানিকটা হতভম্ব হয়ে গিয়েছিলেন, তবে তারা বেশ সহযোগিতা করেছেন।’

কাইওয়াসই ওই রেকর্ডের স্রেফ একমাত্র সারপ্রাইজ ছিল না; আরেকটি ছিল বায়োটেক ইজ গডজিলা— যেটি পাংক মুভমেন্টের আইকন, ডেড কেনেডিস ব্যান্ডের জেলো বিয়াফ্রার সঙ্গে কোলাবোরেট করেছে সেপুলতুরা

বায়োটেক ইজ গডজিলা

‘জেলোর সঙ্গে এর আগে আমাদের মাত্র অল্প কয়েকবার দেখা হয়েছে,’ স্মৃতিচারণায় বলেন কাভালেরা। “তিনি ছিলেন আমাদের কাছে হিরো; আমরা ভাবলাম, তার মতো কারও সঙ্গে কাজ করতে পারাটা দুর্দান্ত হবে। তাকে অনুরোধ করলাম, কয়েকটি গানের আইডিয়া আমাদের সঙ্গে ভাগ করতে রাজি হবেন কি না। জেলো আমার কাছে সেগুলো একটি ক্যাসেটে রেকর্ড করে পাঠালেন। বিভিন্ন ধরনের গান ছিল সেখানে; আমি মুহূর্তেই বায়োটেক ইজ গডজিলা বেছে নিলাম। কেননা, শিরোনামটি একেবারেই যুৎসই মনে হয়েছিল আমার কাছে; দেখামাত্রই মনে হলো, এ যেন স্বয়ং জেলো বিয়াফ্রার কথাই বলে। এমন কথা আর কার পক্ষে বলা সম্ভব? তাই গানটি আমরা ব্যবহার করলাম। ক্যাওয়াজ এ.ডি.র ভার্সনটি যদি আপনি শোনেন, এক পর্যায়ে মনে হবে, যেন জেলোরই গর্জাচ্ছেন।”

“তার পাঠানো ওই ক্যাসেট থেকে আমরা ওটি নিয়ে নিলাম। কিন্তু তিনি আমাদের গানটি শোনামাত্রই আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে বললেন, ‘ওই বিটটা তুমি (আমার) ক্যাসেট থেকে নিয়েছ কেন? এটা তো রেকর্ডে ব্যবহার করার জন্য পাঠাইনি। ঠিকঠাক জিনিসটা পাওয়ার জন্য আমার সঙ্গে তোমার যোগাযোগ করা উচিত ছিল; আমি তোমাকে আসল সাউন্ডটা পাঠাতাম!’ তবে তাতে কিছু আসে-যায় বলে মনে হয় না আমার; ওই টেপে জেলো বিয়াফ্রা যা করেছেন, সেটিই আমাদের গানে যথেষ্ট ভালোভাবে কাজে দিয়েছে। এটি হয়তো স্বতঃস্ফূর্ততার ব্যাপার; তবে আমার সন্দেহ, এরচেয়ে ভালো কিছু পাওয়া আমাদের পক্ষে আদৌ সম্ভব ছিল না।”

এই অ্যালবামে ব্যান্ডটি কাভার করার জন্য যে গান বেছে নিয়েছে, সেটি এক অবাক করা বাছাই: নিউ মডেল আর্মিদ্য হান্ট। আর এ নিয়েই ম্যাক্স কাভালেরা ও আন্দ্রেয়াস কিসারের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়। ‘আইডিয়াটি আমার ছিল,’ জোর দিয়ে বলেন কাভালেরা। ‘ব্যান্ডটিতে আমি কিছুদিন ছিলাম; আমার মনে হয়েছিল, আলাদা কিছু একটার চেষ্টা আমাদের করা উচিত, যেমন এ গান। দ্য হান্ট বেছে নেওয়ার পেছনে সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ ছিল না; তবু এটি ছিল আমাদের জন্য একটি ভালো বাছাই।’

দ্য হান্ট

‘শুধু ম্যাক্স একা নয়, আমরা সবাই মিলেই নিউ মডেল আর্মির গানটি বেছে নিয়েছি,’ দ্বিমত জানিয়ে বলেন কিসার। ‘প্রত্যেকেই, এমনকি আমাদের রোড ক্রুরাও ওদের গান শুনেছে। লিভারপুলে (ওই ব্যান্ডের ভোকাল) জাস্টিন সালিভ্যান আমাদের পারফর্ম দেখতে এসেছিলেন। তাদের ড্রামারও [রব হিটন] ব্রাজিলে এসে আমাদের সঙ্গে দেখা করেছেন। কাভার করার জন্য এটিকে আমাদের কাছে একটি ইন্টারেস্টিং গান বলে মনে হয়েছে; আর কারণ শুধু একটাই– এটি ভিন্ন ধরনের গান। ব্ল্যাক সাবাথ কিংবা মোটরহেড-এর কোনো গানও আমরা করতে পারতাম; তবে একদিক থেকে মনে হয়েছে, তাতে কোনো চ্যালেঞ্জ থাকত না।’

অবশ্য, ম্যাক্স নাকি পুরো ব্যান্ড একসঙ্গে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, তাতে কিছু যায়-আসে না, (অন্যের) গান নিতে হলে আপনাকে তাদের টাকা দিতে হবে। তবে, ওই সেশনে ব্যান্ডটি শুধু এই গানই কাভার করেনি, আরও করেছিল।

ব্ল্যাক সাবাথ-এর সিম্পটম অব দ্য ইউনিভার্সও (কাভার) করেছিলাম আমরা,’ জানালেন কিসার। ‘সেটি এই অ্যালবামের জন্য নয়; বরং সাবাথ ট্রিবিউট অ্যালবাম ন্যাটিভিটি ইন ব্ল্যাক-এর জন্য [যেটি ১৯৯৪ সালে প্রকাশ পায়]। আজব ব্যাপার হলো, সাবাথ তখন যে স্টুডিওতে কাজ [তাদের ১৯৯৪ সালের অ্যালবাম ক্রস পারপাস-এর রেকর্ডিং] করছিল, সেটি ছিল আমাদের স্টুডিওর ঠিক কাছেই, একই রোডে। তাই একদিন ওদের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিই আমরা। ওদের সঙ্গে সত্যিই দেখা করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সেখানে গিয়ে কাউকেই খুঁজে পাইনি। তবে ওখান থেকে এক গাদা গিটার পিক নিয়ে এসেছিলাম আমরা; মানে স্টুডিওটি থেকে (ওদের ফেলে যাওয়া পিকগুলো) চুরি করে এনেছিলাম!’

‘আমাদের সিম্পটম অব দ্য ইউনিভার্স ভার্সনে গেস্ট গিটারিস্ট হিসেবে (ব্ল্যাক সাবাথ-এর) টনি আইওমিকে সত্যি পেতে চেয়েছিলাম আমরা,’ বলেন কিসার। ‘ট্র্যাকটিক সমাপ্তি অংশে তার অ্যাকোয়েস্টিক সলো রাখার পরিকল্পনা ছিল আমাদের। কিন্তু তাকে ধরতে পারিনি; ফলে শেষ পর্যন্ত কাজটি আমাকেই করতে হয়; আর, আমার বাজানোটাও খারাপ হয়েছে বলে আমি মনে করি না!’

তবে সিম্পটম অব দ্য ইউনিভার্সকে এই অ্যালবামে জায়গা দেওয়ার উদ্দেশ্য কখনোই ছিল না। ইতোমধ্যে রকফিল্ডে ফিরে এসে ব্যান্ডটি খানিকটা উভয়সঙ্কটে পড়ে যায়।

‘অ্যালবামের শিরোনাম তখনো ঠিক করিনি আমরা,’ স্মৃতিচারণায় বলেন ম্যাক কাভালেরা। ‘একদম শেষ মুহূর্তের জন্য রেখে দিয়েছিলাম; তবু, সেই মুহূর্তেও আমাদের মাথায় কিছুই আসছিল না। লেবেল কোম্পানি [রোডরানার] যখন আর্টওয়ার্ক প্রস্তুতের কাজ শুরু করে দেয়, তখনো আমরা বুঝে উঠতে পারছিলাম না, কী নাম রাখব। শেষ পর্যন্ত আমাকে বলে দেওয়া হলো, যদি নিজে শিরোনাম ঠিক করতে না পারি, তাহলে এই সিদ্ধান্ত তারাই নেবে, এবং অ্যালবামটির নাম রাখবে রিফিউজ/রিজিস্ট [অ্যালবামের প্রথম গানের শিরোনাম]! কিন্তু এমনটা তো হতে দেওয়া যায় না। এভাবে কোনো অ্যালবামের নাম ঠিক করা উচিতও নয়। অবশেষে নাম দিলাম, ক্যাওয়াজ এ.ডি.।’

রিফিউজ/রিজিস্ট

‘মুহূর্তেই ক্যাওয়াজ এ.ডি. শিরোনাম নিয়ে সত্যিকার অর্থেই একটা দ্বিধা তৈরি হয়েছিল,’ যোগ করেন কিসার। ‘লোকজন আসলে ভেবেছিল এটি বোধহয় রিফিউজ/রিজিস্ট গানেরই শিরোনাম [অ্যালবামের কোনো গানেই ‘ক্যাওয়াজ এ.ডি.’ কথাটি নেই]। ম্যাক্স এই শিরোনাম কোথায় পেল, আমি ঠিক জানি না। আমার ধারণা, ক্যাওয়াজ এ.ডি. নামে সম্ভবত আরেকটি ব্যান্ড ছিল তখন।… যাহোক, নামটি বেশ মানিয়ে গেল। দুনিয়া তখন একটি ক্যাওয়েটিক বা গ্যাঞ্জামপূর্ণ অবস্থায় ছিল; এখনো আছে। ব্রাজিলেও আমরা একটি বড় ধরনের দাঙ্গা দেখেছি তখন; রাস্তা থেকে সাধারণ লোকজনকে রেইড দিয়ে ধরে নিয়ে যাচ্ছিল পুলিশ। ব্রাজিলকে প্রথমবারের মতো পুলিশি রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে পেলাম আমরা। আগেই যেমনটা বলেছি, বাইরে থেকে ব্রাজিল দেখার ফলে আমাদের দৃষ্টিসীমা প্রসারিত হয়ে গিয়েছিল, এবং সেই ক্যাওয়াজে আমরা বেশ আতঙ্কবোধ করছিলাম।’

অবশেষে অ্যালবামের কাজ যখন শেষ হলো, ব্যান্ডটি তখনই জানত, গুরুত্বপূর্ণ কিছু একটা তারা করে ফেলেছে।

‘অ্যালবামটির একদম সবকিছুই ঠিক যথাযোগ্য,’ বলেন ম্যাক্স। ‘গানগুলো ঠিক সঠিক; প্রোডাকশনটি ছিল দুর্দান্ত; মিক্সটি সত্যিকারের দুর্ধর্ষ। নিজেদের প্রতিষ্ঠা করার জন্য যেমন অ্যালবাম করার দরকার আমাদের ছিল, ঠিক তেমনটাই করতে পেরেছিলাম। আমরা প্রত্যেকেই জানতাম, এরচেয়ে ভালো কিছু করা আমাদের পক্ষে কখনোই সম্ভব ছিল না।’

কিন্তু অ্যালবামটি যে এত সফল হবে, সেটা কি সেপুলতুরা সত্যি জানত?

‘আশা তো ছিলই, তবে আশার চেয়ে বেশি আর কী করার ছিল,’ বলেন কাভালেরা। ‘একটি অ্যালবামকে আপনি কতটা ভালো ভাবেন, তাতে কিছুই যায়-আসে না; কেননা, (সফল হবে কি না) সেই সিদ্ধান্ত তো শেষ পর্যন্ত আপনার ওপর নির্ভর করে না। এটি ভক্তদের ওপর নির্ভর করে। তবে আমরা জানতাম, ব্যান্ড হিসেবে বড় হয়ে উঠেছি; পেছনে ফেরার আর উপায় নেই।’


মধ্যযুগীয়
স্টাইলের ভোজসভায়
গণমাধ্যম ও মিউজিক ইন্ডাস্ট্রির
বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মানুষের
আগমনে জ্বলজ্বল
করতে থাকে
চারপাশ

এক বিরাট ফ্যানফেয়ারে, ১৯৯৩ সালের অক্টোবরে মুক্তি পায় অ্যালবামটি। মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে রোডরানার রেকর্ডস খরচে কোনো কার্পণ্য না করে, আগে উল্লেখিত চেপস্টো ক্যাসেলে একটি বিরাট পার্টির আয়োজন করে, যেখানে একটি মধ্যযুগীয় স্টাইলের ভোজসভায় গণমাধ্যম ও মিউজিক ইন্ডাস্ট্রির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মানুষের আগমনে জ্বলজ্বল করতে থাকে চারপাশ। ভক্তরাও সমান উৎসাহ প্রকাশ করে। হু-হু করে বিক্রি হতে থাকে অ্যালবামটি; দুনিয়াজুড়ে এ ব্যান্ডের অ্যালবামের আগের বিক্রির রেকর্ড ভেঙে দিতে থাকে।

যুক্তরাষ্ট্রে ক্যাওয়াজ এ.ডি. জায়গা করে নেয় ‘বিলবোর্ড’ চার্টের ৩২ নম্বরে, যা কি না ব্যান্ডটির জন্য একটা বড় সাফল্য। পরিণামে অ্যালবামটি যুক্তরাষ্ট্রে গোল্ড মার্ক অর্জন করে; বিক্রিসংখ্যা ছাড়িয়ে যায় ৫ লাখ কপি– যদিও এই ল্যান্ডমার্ক অর্জন করতে সময় লাগে ৭ বছর। যুক্তরাজ্যেও অ্যালবামটি গোল্ড স্ট্যাটাস অর্জন করে; সেখানে বিক্রি হয় ১ লাখ কপিরও বেশি।

ব্যান্ডটির জন্য এ ছিল সবদিক থেকে একটি প্রতিপত্তি হাজির, এবং ব্রাজিলে বছরের পর বছর ধরে খেটে যাওয়ার পর সুফল হিসেবে স্বপ্ন পূরণের এক মাত্রা। ‘আমি মনে করি, অ্যারাইজ, ক্যাওয়াজ এ.ডি.রুটস-এর [১৯৯৬] মধ্যে একটা সংযোগ আছে,’ বলেন কিসার। ‘ক্যাওয়াজ এ.ডি.র ওপর ভর দিয়ে আমাদের একটা বিরাট অগ্রগতি ঘটেছিল এবং আমরা পরিণত হয়েছিলাম আন্তর্জাতিক ব্যান্ডে। এটি এখনো আমাদের সর্বাধিক বিক্রিত অ্যালবাম; আমার বিশ্বাস, যদি আমাদের ভক্তদের জিজ্ঞেস করা হয়, প্রতি ১০ জনের ৮ জনই বলবে, এটিই তাদের প্রিয় অ্যালবাম। এখনো সেটে আমি এ অ্যালবামের গান প্রচুর বাজাই, এবং সবসময়ই বাজাব।’

স্লেভ নিউ ওয়ার্ল্ড

‘আমার ধারণা, আমরা নিজেদের একটা অবস্থানের প্রমাণ দিতে পেরেছিলাম, নিজেদের পক্ষে যতদূর সম্ভব,’ বলেন কাভালেরা। ‘নিজেদের সক্ষমতা নিয়ে আমাদের মধ্যে কখনোই সন্দেহ ছিল না; তবে অ্যান্ডি ওয়ালেস, জেলো বিয়াফ্রা এবং এমনকি বায়োহ্যাজার্ড-এর ইভান সেইনফেল্ডের সঙ্গে [স্লেভ নিউ ওয়ার্ল্ড গানের যুগ্মগীতিকার তিনি] কাজ করার সুযোগ পাওয়াটা আমাদের নিজেদের একটি নতুন স্তরে নিয়ে যেতে সাহায্য করেছে।’

‘সেই সময়ের দিকে ফিরে তাকিয়ে আমি সত্যিই বিশ্বাস করি, সেটিই ছিল সেপুলতুরার সেরা সময়। আমরা প্রত্যেকেই ছিলাম অভিন্ন ওয়েভলেন্থের; আর এর পরপরের, ১৯৯৪-৯৫ সাল সময়কার ট্যুর ছিল আমাদের সেরা ট্যুর। সেই ভাইব আর সেই স্পিরিট ছিল এক কথায় স্রেফ অবিশ্বাস্য।’

টেরিটরি

১৯৯৪ সালের ক্যাওয়াজ এ.ডি. ট্যুরই সেপুলতুরাকে প্রথম কোনো লাতিন আমেরিকান ব্যান্ড হিসেবে ডনিংটন মনস্টারস অব রক ফেস্টিভ্যালে [মিউজিক ফেস্ট, ইংল্যান্ড] পারফর্ম করার সুযোগ করে দেয় [সেখানে এরোস্মিথপ্যানটেরার মতো শীর্ষ ব্যান্ডগুলোর সঙ্গে পারফর্ম করে তারা]। অ্যালবামের প্রথম ভিডিও, টেরিটরির মাধ্যমেও নতুন স্তরে পৌঁছে যায় ব্যান্ডটি; ভিডিওটির শুট হয়েছিল ইসরায়েলে।


এই অ্যালবামই এই ব্যান্ডের
ভাঙনেরও সূচনাবিন্দু
হয়ে রয়েছে

তবে, আজব ব্যাপার হলো, এই অ্যালবামই এই ব্যান্ডের ভাঙনেরও সূচনাবিন্দু হয়ে রয়েছে– যে লাইনআপ সে সময়ে ভক্তদের ছিল চেনা ও ভালোবাসার। ১৯৯৪ সালে সেপুলতুরা ম্যানেজার গ্লোরিয়া বুজনোস্কিকে বিয়ে করেন ম্যাক্স কাভালেরা; ফজ টানেল-এর অ্যালেক্স নিউপোর্টকে সঙ্গে নিয়ে, নেইলবম্ব নামে একটি সাইড প্রজেক্ট বা ব্যান্ডও শুরু করেন তিনি। এই দুটি ঘটনা দৃশ্যত দুর্ভেদ্য সেপুলতুরা ক্যাম্পে বড় ধরনের প্রতিক্রিয়া ডেকে আনে। তবে সবই নিহিত ছিল ভবিষ্যতে। সে সময়ে ব্যান্ডটি পোস্ট-গ্রুঞ্জ পিরিয়ডের জন্য এক্সট্রিম মেটালের কার্যকরধর্মী পুনরাবিষ্কার ঘটানো উপভোগ করছিল।

‘সেটি আমাদের উদ্দেশ্য ছিল না কখনোই,’ বলেন কাভালেরা। ‘তবে আমার ধারণা, ক্যাওয়াজ এ.ডি.র মাধ্যমেই এটা ঘটে গেছে। আমরা মেটালকে আসলেই ১৯৯০-এর দশকের উপযোগী করে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলাম। নৃগোষ্ঠীগত সব বিষয়আশয়ই আমাদের সাউন্ডের অংশ হয়ে উঠেছিল, এবং আমরা পরবর্তী অ্যালবামে [রুটস] সেটির আরও বিকাশ ঘটিয়েছিলাম; আর নিজেদের একটা সত্যিকারের টাইট স্টাইল ও সাউন্ড খুঁজে পেয়েছিলাম– যা আগে কখনোই ছিল না। এই অ্যালবাম নিয়ে আমি গর্ববোধ করি কি না, এমন প্রশ্ন লোকে আমাকে হরদম করে। নিশ্চয়ই করি! এটি আমাদের প্রত্যেকের সামনে সম্ভাবনার অনেকগুলো দরজা খুলে দিয়েছিল।’

প্রায় এক-চতুর্থ শতাব্দিকাল আগে, সেপুলতুরা বস্তুত একটি মাস্টারপিস অ্যালবামের মাধ্যমেই নিজেদের দাপুটে অস্তিত্বের জানান দিয়েছিল। বাকি সময়গুলো সেটির প্রভাবেরই অনুরণন শুধু। স্লেয়ার-এর ক্ষেত্রে রেইজন ইন ব্লাড, মেটালিকার ক্ষেত্রে মাস্টার অব পাপেটস যেমন, সেপুলতুরার ক্ষেত্রেও ক্যাওয়াজ এ.ডি. হয়ে উঠেছে সমার্থক।

এরচেয়ে বেশি প্রশংসা আর কীভাবে করা সম্ভব?

ক্যাওয়াজ এ.ডি.

ম্যালকম ডোম: মিউজিক জার্নালিস্ট; যুক্তরাজ্য
সূত্র: মেটাল হ্যামার; মাসিক মিউজিক ম্যাগাজিন, যুক্তরাজ্য। ১৮ মে ২০২০

Print Friendly, PDF & Email
সম্পাদক : লালগান । ঢাকা, বাংলাদেশ।। মিউজিকের বই [অনুবাদ] : আমার জন লেনন [মূল : সিনথিয়া লেনন] ।। কবিতার বই : ওপেন এয়ার কনসার্টের কবিতা; র‍্যাম্পমডেলের বাথটাবে অন্ধ কচ্ছপ; হাড়ের গ্যারেজ; মেনিকিনের লাল ইতিহাস ।। সিনেমার বই [সম্পাদনা/অনুবাদ] : ফিল্মমেকারের ভাষা [৪ খণ্ড : ইরান, লাতিন, আফ্রিকা, কোরিয়া]; ফ্রাঁসোয়া ত্রুফো : প্রেম ও দেহগ্রস্ত ফিল্মমেকার; তারকোভস্কির ডায়েরি; স্মৃতির তারকোভস্কি; হিচকক-ত্রুফো কথোপকথন; কুরোসাওয়ার আত্মজীবনী; আন্তোনিওনির সিনে-জগত; কিয়ারোস্তামির সিনে-রাস্তা; সিনেঅলা [৩ খণ্ড]; বার্গম্যান/বারিমন; ডেভিড লিঞ্চের নোটবুক; ফেদেরিকো ফেল্লিনি; সাক্ষাৎ ফিল্মমেকার ফেদেরিকো ফেল্লিনি; সাক্ষাৎ ফিল্মমেকার ক্রিস্তফ কিয়েস্লোফস্কি; সাক্ষাৎ ফিল্মমেকার চান্তাল আকেরমান

জবাব দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here